ট্রাম্পকে অপসারণে হঠাৎ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার দাবিতে সরব বিভিন্ন পক্ষ
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল কয়েক বছর আগে। সেটি ছিল প্রেসিডেন্টের প্রথম মেয়াদে। আইনপ্রণেতাদের গোপন তৎপরতাটির তথ্য পরে সামনে এসেছিল। কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানের সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেওয়ার পর এখন তা প্রকাশ্যেই আলোচনা করা হচ্ছে।ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ও কট্টর ডানপন্থীরা ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ট্রাম্পের হামলার হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করছেন। মঙ্গলবার (যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময়) ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা হঠাৎ ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মাধ্যমে তাঁকে অপসারণের দাবিতে সোচ্চার হন। তাদের মধ্যে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের গভর্নর জেবি প্রিটজকারের মতো সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থীও আছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, কয়েকজন রক্ষণশীল এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মিত্রও এই দাবিতে শামিল হয়েছেন। ষড়যন্ত্র তত্ত্ববিদ হিসেবে পরিচিতি রেডিও উপস্থাপক আলেকজান্ডার জোনস গত সোমবার তাঁর শো-তে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, ‘কীভাবে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করে আমরা তাঁকে সরাতে পারি?’ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত কট্টরপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার থেকে শুরু করে ট্রাম্পের সাবেক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি এবং ট্রাম্পবিরোধী মধ্যপন্থীরাও এই পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নেন।ইরানের সভ্যতা ধ্বংস করতে চাওয়ার ব্যাপারে ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে যে পোস্ট দিয়েছেন সেটি এক্সে শেয়ার করেছেন জর্জিয়ার রিপাবলিকান ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিন। ক্যাপশনে তিনি লিখেছেন, ‘২৫তম সংশোধনী’। তিনি ট্রাম্পের এই আচরণকে উন্মাদের মতো বলে অভিহিত করেন। পরে অনেক ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রিনের পোস্টটি শেয়ার করেন। ডানপন্থী পডকাস্টার ক্যান্ডাস ওয়েন্সও লিখেন, ‘এখনই ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা প্রয়োজন।’অপসারণের বিষয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের মধ্যে অ্যান্থনি স্কারামুচ্চি ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে অল্প কয়েকদিনের জন্য হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ বিষয়ক পরিচালক ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘ট্রাম্প পারমাণবিক হামলার হুমকি দিচ্ছেন। অবিলম্বে তাঁকে অপসারণ করুন।’নিউইয়র্ক টাইমসের কলামিস্ট ডেভিড ফ্রেঞ্চের মতো ট্রাম্পবিরোধী রক্ষণশীলরাও এই দাবি তুলছেন। ফ্রেঞ্চ বলেন, ‘ স্পষ্টতই ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কিন্তু মানুষ এতটাই অনুভূতিশূন্য হয়ে পড়েছে যে তারা বিষয়টি দেখতেই পাচ্ছে না।’অনেকে সরাসরি অপসারণের দাবি না তুললেও ট্রাম্পের উদ্দেশ্য নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম ট্রাম্পের সাবেক মিত্র টাকার কার্লসন। ফক্স নিউজের সাবেক এই উপস্থাপক গত সোমবার তাঁর এক শো-তে ট্রাম্পকে ‘অ্যান্টি-ক্রাইস্ট’ বা রূপক অর্থে ধ্বংসাত্মক হিসেবে অভিহিত করেন।ট্রাম্পের একজন অনুগত মিত্র হিসেবে পরিচিত উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের রিপাবলিকান সিনেটর রন জনসন মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, ‘ট্রাম্প যদি বেসামরিক অবকাঠামোর মতো লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালান তবে তাঁর প্রতি আমার আর কোনো সমর্থন থাকবে না।’ জনসন ইঙ্গিত দেন, এ ধরনের হামলা প্রকৃতপক্ষে অবৈধ।সামাজিক মাধ্যম বা কোনো অনুষ্ঠানে এসব আলোচনার মানে এই নয় যে, ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা খুব সহজ। এই পদ্ধতি কার্যকর করা বেশ জটিল। কারণ এ সিদ্ধান্ত মূলত ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদেরই নিতে হবে। এটি করতে মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের সমর্থন প্রয়োজন। বর্তমানে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্য এমন কিছু ভাবছেন বলে ইঙ্গিত নেই। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সেরও এতে রাজি হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্পের সাবেক মিত্র এবং ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আসা এই সতর্কবার্তাগুলো যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। তারা মূলত বোঝাতে চাইছেন, যুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপগুলো নেওয়ার আগে ট্রাম্পের খুব সাবধানে ভাবা উচিত।এর আগে যখন (ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে) ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আলোচনা হয়েছিল, তখন সেটি ছিল মূলত ডেমোক্র্যাটদের একচেটিয়া দাবি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন ট্রাম্পের কিছু সাবেক মিত্রও প্রকাশ্যে ক্ষমতাচ্যুত করার আহ্বান জানাচ্ছেন।
আরও পড়ুন ৩ মে সারাদেশে মিলবে হামের টিকা
ঢাকাভয়েস/এই

No comments