Adsterra

লোড হচ্ছে...

গুপ্তরা জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে



গুপ্তরা জালেম রূপে আবির্ভূত হয়েছে,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশে নতুন এক জালেমের আবির্ভাব হয়েছে। সেই দলের বড় নেতা কর্মজীবী নারী নিয়ে খারাপ ভাষায় কথা বলেন। ধরা পড়ার পর মিথ্যা কথা বলা শুরু করেছেন। বলছেন, ‘আমার আইডি হ্যাক হয়েছে।’ বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, কোনো আইডি হ্যাক হয়নি। গুপ্তরা সৎলোকের শাসনের কথা বলে অহরহ মিথ্যা কথা বলছেন। যারা ভোটের আগে এতসব অনৈতিক কাজ করে, তারা কীভাবে সৎলোকের শাসন করবে? 

গতকাল বুধবার দুপুরে বরিশাল নগরের বেলস পার্ক মাঠে বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ২০ বছর পর তারেক রহমান বরিশালে দলীয় সমাবেশে বক্তব্য দিলেন। তিনি বলেন, যারা জালেম হিসেবে আবির্ভাব হয়েছে, তাদের দেশের মানুষ গুপ্ত হিসেবে চেনে। তাদের পরিচিত দোকানে ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। সেগুলো নাকি পকেটে করে কেন্দ্রে নিয়ে যাবে। তারা নীরিহ মা-বোনের এনআইডি নম্বর নিচ্ছে, মোবাইল ফোন নম্বর নিচ্ছে।  

তারেক রহমান বলেন, আমাদের নবীজির স্ত্রী বিবি খাদিজা একজন কর্মজীবী নারী ছিলেন। কর্মজীবী নারী নিয়ে খারাপ মন্তব্যে মা খাদিজাকেও অসম্মান করা হয়। অথচ গুপ্ত সংগঠন নিজেদের ইসলামী দল হিসেবে পরিচয় দেয়। একজন নারীকে ইসলাম কীভাবে সম্মান করে তারা তা জানে না। গুপ্ত দলের আরেকজন নেতা কুমিল্লায় কর্মীদের বলেছেন, আপনারা ১২ তারিখ পর্যন্ত জগনণের পা ধরুন, ১৩ তারিখ থেকে পাঁচ বছর জনগণ আমাদের পা ধরবে। এই দলটির মনের পরিকল্পনা জনগণ বুঝে গেছে। তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। তারা নির্বাচিত হতে পারলে জনগণের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। 

হেলিকপ্টারে দুপুর ১২টার দিকে বরিশালে পৌঁছান তারেক রহমান। নেতাকর্মীর ভিড় ঠেলে তাঁর গাড়িবহর সাড়ে ১২টায় সমাবেশের মাঠে পৌঁছায়। ১টা ১০ মিনিট থেকে ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন তিনি। এর আগে বিভাগের জেলা-উপজেলা থেকে সকাল থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মীর স্রোত বেলস পার্ক মাঠে জড়ো হতে থাকে। মাঠ উপচে বান্দ রোড, রাজা বাহাদুর সড়ক ও জেলা স্কুলের মোড় পর্যন্ত জনসামগম ছড়িয়ে পড়ে। 

বরিশাল বিভাগের ২১ আসনে বিএনপির ১৯ জন ও শরিক দলের আন্দালিব রহমান পার্থ ও নুরুল হক নুরকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, আমি গুপ্ত দলের উল্টো বলে গেলাম, আপনারা আমাদের প্রার্থীদের ১২ তারিখ পর্যন্ত দেখে রাখুন, ১৩  তারিখের পর তারা আপনাদের দেখবেন।  

তিনি বলেন, বরিশালের জন্য আমাদের অনেক কাজ বাকি। নির্বাচিত হতে পারলে সে কাজগুলো করব। বরিশাল-ভোলা সেতু করতে হবে, ভোলায় মেডিকেল কলেজ করতে হবে, শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়ন করব, নদীভাঙন আমাদের ঠেকাতেই হবে। বরিশালে মৎস্য ও কৃষি সম্পদের জন্য হিমাগার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হতে পারলে খাল খনন করার জন্য আমি আবার বরিশালে আসব। আপনারা আমার সঙ্গে খাল কাটতে নামবেন।  

তারেক রহমান বলেন, পাঁচ বছর  আমাদের জনগণের পা ধরে থাকতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি, জনগণের সমর্থন যার পেছনে না থাকে, তার পরিণতি কী হতে পারে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণই সব ক্ষমতার উৎস। তাই জনগণের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য আমরা সব পরিকল্পনা সাজাচ্ছি। গণতন্ত্রের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। জনগণের সমর্থন ছাড়া সেটি সম্ভব নয়। 

বরিশাল মহানগর বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান খান ফারুকের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, মজিবর রহমান সরোয়ার, জহির উদ্দিন স্বপন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নুল আবেদীন, বিলকিস জাহান শিরিন, আন্দালিব রহমান পার্থ, নুরুল হক নুর প্রমুখ।

‘ফরিদপুর বিভাগ করার দাবি পূরণ করা হবে’

জনগণের সমর্থন পেয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ফরিদপুর বিভাগ করার দাবি পূরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তারেক রহমান। গতকাল দুপুরে ফরিদপুর সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে বিএনপির ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগ আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি একথা  বলেন। 

তিনি বলেন, আপনাদের দুটি দাবি– একটি সিটি করপোরেশন, আরেকটি বিভাগ। আমি এটুকু কথা দিতে চাই, বিভাগ গঠন করলে যদি মানুষের উপকার হয়, যদি সমস্যার সমাধান হয়– তাহলে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনগণের এই দাবি পূরণ করবে। 

তারেক রহমান বলেন, বৃহত্তর ফরিদপুরের অন্যতম সমস্যা নদীভাঙন। আমরা পরিকল্পনা নিয়েছি, স্থায়ীভাবে নদীভাঙন প্রতিরোধ করা হবে। ফরিদপুরের চরঞ্চালে ভুট্টা ও গম চাষ হয়। বহু কৃষক এই কাজের সঙ্গে জড়িত। আমরা দেশের কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে চাই। তাদের কৃষি কার্ড দিতে চাই, যাতে কৃষক ভাই ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারেন। পদ্মা নদী ঘিরে ব্যারাজ করতে চাই, যাতে এই অঞ্চলের চাষাবাদে পানির সমস্যা না থাকে। 

তিনি বলেন, এই এলাকায় বহু শিক্ষিত যুবক রয়েছে; কিন্তু কর্মসংস্থান নেই। তাদের কথা চিন্তা করে শিল্প-কারখানা করা হবে, যাতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা নারী। আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে চাই, এই অর্ধেক জনসংখ্যাকে পেছনে রেখে সামনে যেতে পারব না। তাদের কর্মমুখী করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। প্রত্যেক পরিবার স্বাবলম্বী হবে। 

তারেক রহমান বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কষ্টে আছে। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধ পাওয়া যায় না। পুরো বাংলাদেশে হেলথ কেয়ারার নিয়োগ দিতে চাই। এতে মা-বোনরা ঘরে বসে চিকিৎসাসেবা পাবে। হাসপাতালে যেতে হবে না। 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে দেশকে স্বাধীন করেছেন। ১৭ বছর বহু মানুষ গুম হয়েছেন, খুন হয়েছেন, অত্যাচারের শিকার হয়েছেন। অধিকার ফিরে পেতে এই মানুষগুলো জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা রাজপথে আন্দোলন করে একাত্তরের সেই স্বাধীনতা রক্ষা করেছে। এই যে মানুষের ভোটাধিকার, কথা বলার অধিকার– আমাদের তা সমুন্নত রাখতে হবে। 

তারেক রহমান বলেন, জনগণের স্বাধীনতা, জনগণের ভোটের অধিকার, কথা বলার অধিকার– এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে। সেই ষড়যন্ত্রকারীদের জনগণ গুপ্ত নামে চেনে। তারা বিভিন্ন সময় রূপের পরিবর্তন করে। জনগণকে তারা অপমানিত করে। এই গুপ্ত দলের প্রধান দেশের খেটে খাওয়া মা-বোনকে নিয়ে  আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। যে রাজনৈতিক দল খেটে খাওয়া মা-বোনকে নিয়ে এমন নোংরা মন্তব্য করে, তাদের কাছ থেকে ভালো কিছু আশা করা যায় না। এর প্রমাণ আমারা একাত্তরে দেখেছি। সে সময় তাদের বিতর্কিত ভূমিকার জন্য লাখ লাখ মা-বোন সম্ভ্রম হারিয়েছেন। তারা মুখে বলবে একটা, করবে আরেকটা। 

এই গুপ্তরা মা-বোনদের কাছ থেকে মোবাইল নম্বর ও এনআইডি কার্ড চাইছেন। তারা কাজ শুরু করছেন অনৈতিকভাবে। তাহলে কীভাবে তারা সৎমানুষের শাসন দেবেন। ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন শামা ওবায়েদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল, সেলিমুজ্জামান সেলিম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, আফজাল হোসেন খান পলাশ প্রমুখ।

সভার শুরুতে তারেক রহমান মঞ্চে উঠে বৃহত্তর ফরিদপুরের ১৫ সংসদীয় আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। এর আগে বরিশাল থেকে হেলিকপ্টারে দুপুর ২টা ৪০ মিনিটে ফরিদপুর পৌঁছান। বিকেল ৩টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত তিনি বক্তব্য দেন। 

 আরও পড়ুন    দেশে চক্ষু সেবায় বড় ঘাটতির, ঝুঁকি বাড়ছে অন্ধত্বের 

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.