ভূমিকম্প নিয়েও গুজব সচেতনতা জরুরি
সমকাল: সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেকেই বলছেন, ভূমিকম্প নিয়ে অযথা গুজব ছড়ানো হচ্ছে, আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে। আসলে কি এ রকম কিছু কিনা?
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার: যারা বলছেন গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তারা তো ঢাকা শহরে ছিলেন বা ঢাকা শহরে না থাকলে এলাকায় ছিলেন। তারা তো ভূমিকম্প টের পেয়েছেন।
সমকাল: কিন্তু বলা হচ্ছে, একটা বড় ভূমিকম্প হবে। কেউ কেউ নানা সতর্কবার্তাও দিয়ে দিচ্ছেন।
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার: আমি ফেসবুকে দেখলাম, একটি এলাকায় মাইকিং করে বলা হচ্ছে, রাত ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে বড় আকারের ভূমিকম্প হবে। সবাইকে বাড়ির বাইরে আসতে বলা হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, আগামী ১০-১৫ দিনের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হবে। এগুলো যে যার মতো করে বিশ্লেষণ করছে। যাদের ভূমিকম্প সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই, তারাও ফেসবুকে জ্ঞান দিচ্ছেন। ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। আমরা দীর্ঘদিন গবেষণা করেছি। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে আমরা গবেষণালব্ধ জ্ঞান থেকেই কথা বলি। তবে এখন যে জিনিসটা হয়, আমি যেভাবে বলি, অনেক সাংবাদিক সেভাবে লেখেন না। তারা কিছু বিষয় অন্যভাবে লেখেন। আবার অনেক গণমাধ্যম ভূমিকম্প বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্য নিচ্ছেন। মানুষ ইঞ্জিনিয়ারদের বক্তব্যই বিশ্বাস করেন। ভূতত্ত্ববিদ ছাড়া ভূমিকম্প নিয়ে ইঞ্জিনিয়ারদের কথা বলা উচিত নয়। এগুলো বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। বাংলাদেশে অপেশাদার কাজ হচ্ছে। ভূমিকম্প কোথায় হবে, কী পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে, কোনগুলো ভূমিকম্পের উৎস– এসব বিষয় একমাত্র ভূতত্ত্ববিদরাই বলতে পারবেন। অনেক গণমাধ্যম যারা ভূমিকম্প বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তাদের বক্তব্য গ্রহণ করে না। আমাদের দেশে কোনো ঘটনা ঘটলেই সবাই বিশেষজ্ঞ হয়ে যান। যার যা বিষয় নয়, তিনিও তা নিয়ে কথা বলেন। আবার এআই দিয়েও অনেক ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এতেও মানুষের মাঝে আতঙ্ক কাজ করছে। আতঙ্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী ভূমিকম্প নিয়ে গুজব ছড়িয়ে ফায়দা লুটছে। অতীতেও এমন হয়েছে। মানুষকে আতঙ্কের মাঝে রেখে ঘরবাড়ি থেকে বের করে দিয়ে চুরি-ডাকাতিও হয়েছে।
সমকাল: তাহলে আপনার মূল বক্তব্য হচ্ছে বাংলাদেশ ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু কখন হবে, কেউ বলতে পারবে না?
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার: ভূমিকম্পের কোনো আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া যায় না। কখন ভূমিকম্প হবে– এটা বলা যায় না। শুধু বিজ্ঞান এটুকু সক্ষমতা অর্জন করেছে, কোন এলাকায় কী পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে, সেটি আমরা বলতে পারি। একটা ধারণা করতে পারি।
সমকাল: অনেকেই বলছেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মধ্যে আরেকটি বড় ভূমিকম্প হতে পারে।
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার: এটি ভুল ধারণা। অনেকে বলছেন একটি বড় ভূমিকম্পের ১০০ বছর পর আরেকটি বড় ভূমিকম্প হবে। আসলে ভূমিকম্প যে কোনো সময় হতে পারে। ভাসা ভাসা জ্ঞান থাকার কারণে অনেকেই এসব কথা বলেন। আমাদের গবেষণা বলছে, রিকারেন্স পিরিয়ড হচ্ছে ১০০০ থেকে ১৫০০ বছর। কিন্তু এখানে ১০০০ বছরের শক্তি জমা হয়ে আছে। অর্থাৎ, যে কোনো সময় বড় ভূমিকম্প হতে পারে। আবার ১০০ বছর পরও হতে পারে। ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি জমা হয়ে আছে। তার মানে এই নয় যে, ৮ বা ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হবে। আবার যে শক্তিটা জমা হয়ে আছে, তা একবারে প্রথমে বের হয় না। তার ৬০ বা ৬৫ শতাংশ কিংবা ৮০ শতাংশ একবারে বের হয়।
সমকাল: নরসিংদীতে গতকাল হাজারো মানুষ খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। মানুষকে কীভাবে আশ্বস্ত করবেন?
সৈয়দ হুমায়ুন আখতার: কেউ সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে কান দেবেন না। কেউ গুজব ছড়াবেন না। এ ব্যাপারে সবাই সজাগ থাকবেন। ভূমিকম্পের কোনো আগাম সংকেত নেই। ফলে ভূমিকম্পের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। ভূমিকম্প থেকে রক্ষায় উপায়গুলো সবাইকে জানতে হবে। সচেতনতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।
আরও পড়ুন প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
ঢাকাভয়েস/এই


No comments