Adsterra

লোড হচ্ছে...

একইদিনে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল


একইদিনে ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন ইরান যুদ্ধ দ্রুতই শেষ হবে। দুইদিনের মধ্যে পাকিস্তানে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ঘোষণার ওই দুইদিন শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার। এদিনই ইরানে নতুন করে হামলার হুমকি দিলেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা।বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, ‘যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের সব বন্দরে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ জারি রাখবে। চুক্তি না করলে ইরানে নতুন করে হামলাও চালানো হবে।’ অপরদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব না মানলে ইরান আরও বেদনাদায়ক হামলার মুখে পড়বে।

তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে চুক্তি করাতে মধ্যস্থতার অংশ হিসেবে ইরান সফরে গেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসিম মুনির। এ ছাড়া, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও মধ্যপ্রাচ্য সফরে আছেন। এমন সময়ে ডিসিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পেন্টাগনের প্রধান হেগসেথ বলেন, ইরান যদি ভুল পথ বেছে নেয় তাহলে তাদের কেবল বন্দর অবরোধই নয় বরং বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং অবকাঠামোর ওপর বোমাবর্ষণ করা হবে।এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পর গত সোমবার ইরানি বন্দরগুলোতে অবরোধ শুরু করে মার্কিন নৌবাহিনী। এর আওতায় দেশটির বন্দর ব্যবহার করা জাহাজগুলোর চলাচলে বাধা দেওয়া হবে। পিট হেগসেথের পাশাপাশি সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ ড্যান কেইন বলেন, কেউ এই অবরোধ অমান্য করলে শক্তি প্রয়োগ করা হবে। এখন পর্যন্ত অবরোধ অমান্য করা ১৩টি জাহাজকে ফেরত পাঠানো হয়েছে।তবে ড্যান কেইন এমন দাবি করলেও জাহাজ চলাচল ট্র্যাকিংয়ের সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার অবরোধ শুরুর কয়েক ঘণ্টা পরই দুটি জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে। লাইবেরিয়া ও পূর্ব আফ্রিকার দেশ কোমোরোসের পতাকাবাহী জাহাজগুলো ইরানের বন্দর ব্যবহার করেছিল।প্রায় এক মাসের যুদ্ধে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো থেকে ইরান সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধারের চেষ্টা করছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন পিট হেগসেথ। এ নিয়ে ইরানি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা সামরিক সরঞ্জাম কোথায় সরাচ্ছেন, তা আমাদের জানা আছে।’ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনারা ধ্বংসস্তূপ থেকে অবশিষ্ট লঞ্চার এবং ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খুঁজে বের করছেন ঠিকই, কিন্তু সেগুলো প্রতিস্থাপনের সক্ষমতা আপনাদের আর নেই। আপনাদের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন পুরোপুরি অচল।’পিট হেগসেথ এর আগে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল হয়ে গেছে বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু এর কয়েকদিন পরই একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করে তেহরান। সেটির পাইলট ও ক্রু উদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা ধরে বিশেষ অভিযান চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তখন অভিযানে যাওয়া অন্তত তিনটি বিমান বিধ্বস্তের দাবি করেছিল ইরান।

ইসরায়েলের হুমকি

এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল কাৎজ বৃহস্পতিবার বলেছেন, ওয়াশিংটনের দেওয়া পারমাণবিক অস্ত্র ত্যাগের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ইরানের নতুন নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে। এটি হবে আরও বেশি বেদনাদায়ক।ইসরায়েল কাৎজ বলেন, ‘ইরান আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একটি পথ হলো- যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী সন্ত্রাসবাদ এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করা। আর অন্য পথটি ধ্বংসের দিকে যাওয়ার।’ তিনি আরও বলেন, ইরানি শাসকগোষ্ঠী যদি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেয়, তবে তারা দ্রুতই হামলা যন্ত্রণাদায়ক অনুভূতি টের পাবে।

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দেশের হামলার হুমকির জবাবে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অসিম মুনিরের তেহরান সফরের পরিপ্রেক্ষিতে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের বৈঠকের পর পরবর্তী দফার আলোচনা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ইরান।

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল যদি তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার কোনো চেষ্টা চালায়, তবে তা ব্যর্থ হবে। ইরানি জাতি কখনোই নতি স্বীকার করবে না।

আরও পড়ুন          এশিয়ায় তেল সংকট সামাল দিতে ১০ বিলিয়ন ডলার দেবে জাপান

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.