Adsterra

লোড হচ্ছে...

সোমবার এলেই বাজার অস্থির, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল


সোমবার এলেই বাজার অস্থির, তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়াল,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বড় ধরনের দরপতন হয়েছে বিশ্বের প্রায় সব শেয়ারবাজারে।রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার বা অপরিশোধিত তেলের দাম এক লাফে ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে তেলের দাম সব মিলিয়ে ৪০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেল। অপরদিকে আলজাজিরা জানিয়েছে, পুরো এশিয়ায় শেয়ারবাজারে সামান্য দরপতন লক্ষ্য করা গেছে। হংকং, জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার বাজারে পতনের মাত্রা ছিল সবচেয়ে বেশি। এই দেশগুলোর বাজার সূচক ১ শতাংশের সামান্য নিচে বা ওপরে অবস্থান করছে। মূলত এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি সোমবারই এমন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহের শুরুতে লেনদেনে দরপতন ঘটে এবং সাধারণত পুরো সপ্তাহে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠে বাজারে কিছুটা উন্নতি দেখা দেয়।আলজাজিরা লিখেছে, বাজারের এই পরিস্থিতির পেছনে দুটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একটি ধারণা জন্মেছে যে, সপ্তাহিক ছুটির দিনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে সামাজিক মাধ্যমে বড় কোনো সিদ্ধান্ত আসবে। ফলে সোমবার বাজার পড়ে যায়। তবে সপ্তাহের বাকি সময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য কোনো জয়ের দাবি বা সমঝোতার আশায় বাজার আবার চাঙ্গা হয়ে ওঠে।দ্বিতীয় কারণটি হলো, বর্তমানে এশিয়ার অধিকাংশ দেশের সরকারি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার এখন ওমান, সৌদি আরব, কাজাখস্তান, অস্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য এমন উৎস থেকে তেল ও গ্যাস নিশ্চিত করা, যা পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়বে না।

মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে

এদিকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত মার্কিন ডলারের মান সোমবার অন্যান্য প্রধান মুদ্রার বিপরীতে আরও শক্তিশালী হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আর্থিক সংস্থা এজে বেলের বিনিয়োগ পরিচালক রাস মোল্ড এএফপিকে বলেছেন, বিশ্বজুড়ে আবারও ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে স্থবির প্রবৃদ্ধির আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে। ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করার পাশাপাশি মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত আটটা থেকে হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধ শুরু হতে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ইরানের সমস্ত বন্দরে এই অবরোধ কার্যকর করবে। এক্সে দেওয়া পোস্টে সেন্টকম লিখেছে, ইরানের বন্দর এবং উপকূলীয় এলাকায় যাতায়াত করা সব দেশের জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করা হবে। তবে অন্য কোনো গন্তব্যে যাওয়া জাহাজের স্বাভাবিক চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে না।

যেসব দেশ বেশি ভুগবে

যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের তেল রপ্তানির সিংহভাগই যেত চীনে। তবে গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র একটি নিষেধাজ্ঞা সাময়িক শিথিল করায় ভারতসহ অন্যান্য ক্রেতাদের জন্য ইরান থেকে তেল আমদানির পথ সুগম হয়। শিপিং ডেটা সংস্থা এলএসইজি ও কেপলারের জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, গত সাত বছরের মধ্যে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রথম চালানটি চলতি সপ্তাহেই ভারতে পৌঁছানোর কথা। 

মধ্যেপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। এসব জ্বালানি পণ্যের অধিকাংশেরই গন্তব্য ছিল এশিয়া। মূলত এশিয়ার দেশগুলোই বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত।

আরও পড়ুন        হরমুজে অবশ্যই টোল দিতে হবে- ইরান, প্রত্যাখ্যানের আহ্বান আইএমওর 

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.