Adsterra

লোড হচ্ছে...

ইরানি সম্পদের দিকে লোভ আমিরাতের



ইরানি সম্পদের দিকে লোভ আমিরাতের, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

সংযুক্ত আরব আমিরাতের আকাশসীমায় ইরানের অবিরত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর তেহরানকে কঠোর অর্থনৈতিক শিক্ষা দেওয়ার কথা ভাবছে আবুধাবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, আমিরাত তাদের দেশে গচ্ছিত কয়েক বিলিয়ন ডলারের ইরানি সম্পদ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দের কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। কয়েক দশক ধরে ইরান আমিরাতকে তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দীর্ঘদিনের সমীকরণ বদলে যাচ্ছে।

​সংযুক্ত আরব আমিরাত মূলত ইরানের গোপন অর্থায়ন ব্যবস্থার মূলে আঘাত হানতে চায়। এক্ষেত্রে তাদের প্রধান লক্ষ্য হলো ইরানের প্রভাবশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান আইআরজিসির তহবিলের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে যে পরিমাণ তেল বিক্রি করে, তার একটি বড় অংশ আমিরাত-ভিত্তিক বিভিন্ন ছদ্মবেশী বা কাগুজে প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে লেনদেন হয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্কিন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলারের গোপন ইরানি কার্যক্রমের ৬২ শতাংশই পরিচালিত হয়েছে দুবাই ও আমিরাত-ভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানির মাধ্যমে।

​আবুধাবি কেবল সম্পদ জব্দ করেই ক্ষান্ত হতে চায় না। তারা ইরান সংশ্লিষ্ট অবৈধ কোম্পানিগুলো বন্ধ এবং প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে অর্থ লেনদেনকারী এক্সচেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া দেশটির সমুদ্রসীমায় থাকা ইরানের গোপন তেলবাহী ট্যাংকারগুলো জব্দ করার বিষয়টিও এখন নীতিনির্ধারকদের আলোচনার টেবিলে রয়েছে।

থিংক ট্যাঙ্ক 'বুর্স অ্যান্ড বাজার' এর প্রধান নির্বাহী এসফান্দিয়ার বাতমাঙ্গেলিদজ এবং লন্ডনের কিংস কলেজের সিনিয়র লেকচারার আন্দ্রেয়াস ক্রিগ এই পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে আমিরাতের হাতে থাকা সবচেয়ে বড় 'বেসামরিক অস্ত্র' হিসেবে অভিহিত করেছেন।

​দীর্ঘদিন ধরে পারস্য উপসাগরের ওপারে অবস্থিত প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং পশ্চিমা মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত জোটের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল আমিরাতের মূল নীতি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দুবাই বিমানবন্দর, বুর্জ আল আরব হোটেল চত্বর এবং পাম জুমেইরাহ দ্বীপের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় ইরানি হামলার ক্ষয়ক্ষতি আমিরাতকে এই কঠোর পথে হাঁটতে বাধ্য করছে।

​তবে এই সিদ্ধান্ত আমিরাতের জন্য পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত নয়।

কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এমন পদক্ষেপের পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান আমিরাতের জ্বালানি অবকাঠামোতে দীর্ঘমেয়াদি হামলা চালাতে পারে। এ ছাড়া রাশিয়া বা অন্যান্য রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর উৎস থেকে আসা পুঁজি আকর্ষণে আমিরাতের যে বৈশ্বিক সুনাম রয়েছে, তাও এই কঠোর পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

যদিও আমিরাত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কোনো মন্তব্য করেনি, তবে তারা ইতোমধ্যে তেহরানকে এই সম্ভাব্য কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরব অর্থনৈতিক সম্পর্কের কি ইতি ঘটছে 

ঢাকাভয়েস/এই


No comments

Powered by Blogger.