Adsterra

লোড হচ্ছে...

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরব অর্থনৈতিক সম্পর্কের কি ইতি ঘটছে


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরব অর্থনৈতিক সম্পর্কের কি ইতি ঘটছে, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

ইরানে চাপিয়ে দেওয়া গণহত্যাকারী ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের অসম যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব দেখতে শুরু করেছে আগ্রাসনকারীরা। ইতোমধ্যে ধীরে ধীরে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সমালোচনায় মুখর হচ্ছেন বিশ্ব নেতারা। এবার জানা গেল, উপসাগরীয় দেশগুলো আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ তুলে ফেলার আলোচনা করেছে।  এর অর্থ হলো- যুক্তরাষ্ট্রসহ যেসব পশ্চিমা রাষ্ট্রের এ অঞ্চলে বিনিয়োগ আছে তাদের সঙ্গে সম্পর্কের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও কাতার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্দিষ্ট কিছু চুক্তি এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসা বা তা কমিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধ ও পরিবর্তনশীল বিশ্ববাজারের সঙ্গে যুক্ত চলমান সংঘাত ও অস্থিরতার কারণে আঞ্চলিক অর্থনীতিগুলো চাপের মুখে পড়ায় এই সম্ভাব্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

উপসাগরীয় নেতারা বিদেশে বড় ধরনের মূলধন বিনিয়োগের আগে আর্থিক ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের ঝুঁকিগুলো মূল্যায়ন করছেন বলে জানা গেছে।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট আর্থিক চাপ কমাতে বিকল্প পথ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলো তাদের বিদেশি বিনিয়োগ এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতিগুলো পর্যালোচনা করতে পারে।

উপসাগরীয় এক কর্মকর্তা জানান, বিদেশি রাষ্ট্র বা কোম্পানিকে দেওয়া বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি, ক্রীড়া স্পনসরশিপ, ব্যবসায়িক চুক্তি কিংবা শেয়ার বিক্রির মতো যেকোনো বিষয়ের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, উপসাগরীয় অঞ্চলের চারটি বড় অর্থনীতির মধ্যে তিনটি দেশ—সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত এবং কাতার—যৌথভাবে তাদের বাজেট ও অর্থনীতির ওপর পড়া চাপ নিয়ে আলোচনা করেছে। তবে তিনি দেশগুলোর নাম উল্লেখ করতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু উপসাগরীয় দেশ বর্তমান চুক্তিগুলোতে 'ফোর্স মেজিউর' (অনিবার্য পরিস্থিতি) ধারা প্রয়োগ করা যায় কিনা, তা নির্ধারণে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা শুরু করেছে। একই সঙ্গে বর্তমান যুদ্ধের কারণে প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক চাপ লাঘব করতে বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যদি যুদ্ধ এবং এর সঙ্গে যুক্ত ব্যয় একই গতিতে চলতে থাকে।’

তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পদক্ষেপটি মূলত একটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। জ্বালানি খাত থেকে আয় কমে যাওয়া (উৎপাদন হ্রাস বা শিপিংয়ে অক্ষমতার কারণে), পর্যটন ও বিমান চলাচল খাতের মন্দা এবং প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে দেশগুলো যে বাজেট সংকটে পড়েছে, তারই ফল এটি।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী খালাফ আল-হাবতুর ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে দেওয়া এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কারণে শুরু হওয়া যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

এক্সে তিনি বলেন, ‘একটি সরাসরি প্রশ্ন: আমাদের অঞ্চলকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে টেনে নেওয়ার অধিকার আপনাকে কে দিয়েছে? আর কোন ভিত্তিতে আপনি এই বিপজ্জনক সিদ্ধান্ত নিলেন? ট্রিগার চাপার আগে আপনি কি আনুষঙ্গিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করেছিলেন?’

তিনি উল্লেখ করেন যে, ট্রাম্পের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা এবং তার বৃহত্তর ‘বোর্ড অব পিস’-এর প্রধান অর্থদাতা হওয়ার কথা ছিল এই উপসাগরীয় দেশগুলোরই।

তিনি বলেন, আরব উপসাগরীয় দেশগুলো ‘স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের সমর্থনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আজ এই দেশগুলোর প্রশ্ন করার অধিকার আছে: এই টাকা কোথায় গেল? আমরা কি শান্তি উদ্যোগে অর্থায়ন করছি নাকি এমন একটি যুদ্ধে অর্থ দিচ্ছি যা আমাদের বিপদে ফেলছে?’

আরও পড়ুন  ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা রহস্যময় ব্যক্তিত্বের অধিকারী

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.