হঠাৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতি: সেলিম রায়হান
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার কারণে হঠাৎই অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার বড় ধরনের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। বিশেষ করে ইরান গত সোমবার হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান। বুধবার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান। সানেমের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, কোনো জাহাজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করলে রেভোল্যুশনারি গার্ড ও নৌবাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতিতে।তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বর্তমানে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) কিছু মজুত থাকলেও নতুন আমদানি ব্যাহত হলে তা দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম ইতোমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে, যা অভ্যন্তরীণ বাজারে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি করবে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়লে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হবে। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে এবং শিল্প খাত প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।সেলিম রায়হান বলেন, এ সংকট দ্রুত কাটবে - এমন আশা করা কঠিন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক পর্যায়ে বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হবে এবং তার প্রভাব দেশে পড়বে। তাই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। ব্যবসায়ী, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে একটি সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা উচিত। বিকল্প জ্বালানি উৎস খোঁজা, আমদানি উৎস বহুমুখীকরণ, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় সংকোচনের মতো পদক্ষেপ এখনই বিবেচনায় আনা প্রয়োজন। এই মুহূর্তে প্রয়োজন সময়োপযোগী ও সমন্বিত উদ্যোগ, যা সম্ভাব্য বড় সংকট মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প
ঢাকাভয়েস/দি

No comments