কী হবে কেউ জানে না, মানুষ হতাশ, আতঙ্কিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হামলা শুরুর পর ইরানের বাসিন্দাদের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধের ছয়দিনেও সেই আহ্বানে সাড়া দেওয়ার লক্ষণ দেখা যায়নি। উল্টো টানা হামলার কারণে হতাশ ও আতঙ্কিত অনেকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব নিয়ে ‘জাতীয় ঐক্যের’ দিকে ঝুঁকছেন।তেহরানে অবস্থানরত আলজাজিরা ও বিবিসির সাংবাদিকরা রাজধানী ও আশপাশের এলাকার ষষ্ঠদিনের চিত্র তুলে ধরছেন। পর্যবেক্ষকরাও তাদের মতামত দিচ্ছেন। আলজাজিরার সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি বৃহস্পতিবার লিখেছেন, গত বছরের জুনের হামলার তুলনায় এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তখন বেশিরভাগ হামলা ছিল তেহরানকেন্দ্রিক। কিন্তু এবার তা অনেক বিস্তৃত। দেশের অনেক শহরে আঘাত হানা হচ্ছে। ১৫০টির বেশি শহর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। ফলে অন্য এলাকার বাসিন্দারাও নিজেদের নিরাপদ মনে করছে না।আসাদি আরও লিখেছেন, ধারাবাহিক হামলার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা ও আতঙ্ক স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জনমনে উদ্বেগ বাড়ছে। তেহরান ও এর আশপাশের প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাসিন্দাদের কেউ কেউ নিজ উদ্যোগে শহর ছাড়ছেন। যাদের সে সুযোগ নেই তাদের দিন কাটছে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।বিবিসি পার্সিয়ানের সাংবাদিক সোরোশ পাকজাদ কয়েকজন ইরানির সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি। সোরোশ শুরুতে নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে লিখেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অন্যান্য শহরের বর্তমান পরিস্থিতি বা মানুষের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সহজ নয়। যেটুকু জানা যাচ্ছে, রাস্তাঘাট এখন অনেকটা ফাঁকা। তেহরান ও ইসফাহানের মতো বড় শহরগুলোতে জনসাধারণের তুলনায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বেশি।রাস্তাঘাটের বর্তমান চিত্র দেখে তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক ও মধ্যপ্রাচ্য স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সেন্টারের জ্যেষ্ঠ গবেষক আব্বাস আসলানি ধারণা করছেন, এটি যুক্তরাষ্ট্রের হামলার বিপরীত প্রতিক্রিয়ার ফল। আলজাজিরাকে তিনি বলেন, দেশের শাসকদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করার বদলে তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ জড়ো হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানাতে। তারা রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতি সমর্থন প্রকাশ করছেন।আব্বাস আসলানি বলেন, সমাজের একটি অংশ আগে মনে করত ট্রাম্প তাদের সাহায্য করতে আসবেন। কারণ তারা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা কিংবা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট ছিল। কিন্তু এখন অনেকের কাছেই পরিষ্কার হচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাহায্য করতে আসেনি।কী হবে কেউ জানে না | বিবিসির সোরোশ পাকজাদের সঙ্গে যেসব ব্যক্তির যোগাযোগ হয়েছে তাদের মধ্যে একজন বলেছেন, তিনি পাঁচদিন পর বৃহস্পতিবার বাড়ির বাইরে গিয়েছিলেন। তেহরানের নাফত স্ট্রিট দিয়ে গাড়ি চালানোর সময় রাস্তাঘাট একেবারে ফাঁকা দেখেছেন। গত সোমবার নাফত স্ট্রিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভবনে হামলা হয়। সেখানে এখন শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর জোরদার উপস্থিতি। নাফতের কাছের ইরানশাহর স্ট্রিট স্বাভাবিক সময়ে খুব ব্যস্ত থাকে। এক বাসিন্দা জানান, সেখানকার বেশিরভাগ দোকান এখন বন্ধ। তিনি প্রায়ই সেখানে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন। কিন্তু হামলার পর কারও সঙ্গে তাঁর দেখা হয়নি। স্থানীয় ওই বাসিন্দা বলেন, এমন পরিবেশে অদ্ভূত একটা অনুভূতি কাজ করছে। অনেকটা করোনাকালের মতো। সবাই ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। সামনে কী হবে কেউ জানে না। তবে ভেতরে ভেতরে আমরা জানি, একসময় না একসময় এটা শেষ হবে। জীবন আবার স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প
ঢাকাভয়েস/দি

No comments