যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলার পর বড় অঙ্কের অর্থ জিতেছে জুয়াড়িরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান ঘিরে নানা মহলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেক সমালোচক হোয়াইট হাউসের একতরফা সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ওয়াশিংটনে এমন ব্যক্তিদের উপস্থিতি দেখা গেছে, যারা প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম কালশি ও পলিমার্কেটে বাজি ধরে বড় অঙ্কের মুনাফা লাভ করছে। এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে ট্রেডাররা যুদ্ধ ও গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক ঘটনার সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর বাজি ধরেন। চলতি সপ্তাহে পলিমার্কেটে মাগামাইম্যান নামের এক ব্যবহারকারী একদিনেই ৫ লাখ ডলার বা এর বেশি লাভ করেছেন। তার বাজি ছিল- যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ক্ষমতায় থাকবেন না।ক্যালিফোর্নিয়ায় ডেমোক্র্যাটের প্রতিনিধি মাইক লিভিন সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, ইরানে হামলার খবর গণমাধ্যমে আসার প্রায় ৭১ মিনিট আগে পলিমার্কেটে বাজি ধরা হয়েছিল। মাগামাইম্যান নামের ব্যক্তি সেদিন লেনদেন শুরুর সঙ্গে সঙ্গে তাঁর বাজির কথা জানান। অথচ তখনও হামলা হবে কি না সে সম্ভাবনা ছিল ১৭ শতাংশ। এছাড়া, বিভিন্ন ছদ্মনামে আরও তিনজন ব্যবহারকারী যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হামলার ওপর বাজি ধরেন। এসব অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছিল ফেব্রুয়ারিতে। সেগুলো থেকে এখন শুধু ইরান সম্পর্কিত বাজি ধরা হচ্ছে।আগের কিছু ঘটনার সঙ্গে এসব বিষয়ের মিল থাকায় আইনপ্রণেতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যেমন- একজন ব্যক্তি ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অপহরণকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে এ সম্পর্কিত বাজি ধরেছিলেন। অনুমান সত্য হওয়ায় তিনিও বড় অঙ্কের লাভ করেন। একইভাবে আরেক ব্যক্তি মারিয়া কোরিনা মাচাদোর নোবেলপ্রাপ্তি নিয়ে বাজি ধরে ৫০ হাজার ডলার জিতেছিলেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখায় পলিমার্কেট সম্প্রতি কঠোর নজরদারির মুখে পড়েছে। তবে কালসি নামের অন্য প্ল্যাটফর্মটি যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচারস ট্রেডিং কমিশন (সিএএফটিসি) দ্বারা তদারকি করা হয়। প্রেডিকশন মার্কেটে শেয়ারের মূল্য ফলাফলের সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওঠানামা করে। অনেকটা স্টক মার্কেটের মতো। কিন্তু প্রতিটি বাজির একটি নির্দিষ্ট তারিখ থাকে। যেমন- ইরানে হামলা নিয়ে বাজির নির্দিষ্ট সময় ছিল ২৮ ফেব্রুয়ারি। অর্থ্যাৎ, এই দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা করবে। এটি সাধারণ বাজির মতো হলেও বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য আছে। এ ধরনের লেনদেন পণ্যের ফিউচার ট্রেডিংয়ের মতো কাজ করে। যেমন- তেলের ভবিষ্যৎ বাজার।বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরির কাজ করে গ্লোবাল সেটেলমেন্ট। এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রায়ান কার্কলে আলজাজিরাকে বলেন, সাধারণ বাজি এবং মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে বাজি ধরার মধ্যে পার্থক্য আছে। মূল প্রশ্ন হলো- আমরা কি গণতন্ত্রের ওপর বাজি ধরে ফিউচার মার্কেট তৈরি করব? ভূরাজনীতি ও যুদ্ধের ওপর এমন করাটা কি ঠিক? সামজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব বিষয় বিবেচনা করা দরকার।
আরও পড়ুন পরাজয় অথবা আরও আক্রমণের দোটানায় পড়েছেন ট্রাম্প
ঢাকাভয়েস/দি

No comments