জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য তরুণ ও গ্রামীণ নারী
‘নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ গড়ার নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ প্রতিশ্রুতি, ২৬ অগ্রাধিকার এবং ৪১ পরিকল্পনা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ১০ প্রতিশ্রুতির মধ্যে পাঁচটি করে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ রয়েছে। হ্যাঁ-এর মধ্যে রয়েছে সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান। না এর মধ্যে আছে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব ও চাঁদাবাজি।
গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে প্রকাশিত ইশতেহারে জামায়াত তরুণ এবং গ্রামীণ নারী ভোটারদের প্রাধান্য দিয়েছে। ক্ষমতায় যেতে পারলে পাঁচ বছরে এক কোটি তরুণকে প্রশিক্ষণ দিতে ‘দক্ষতা’ কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাড়ে পাঁচ কোটি গ্রামীণ নারীর জন্য ‘আমার আয়ে সংসার’ কর্মসূচির ওয়াদা করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় নারীর দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক ক্ষমতায়নে ব্যবসায় সরকারিভাবে বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে জামায়াত।
নারী যাতে উত্তরাধিকার সূত্রে সম্পদ বুঝে পায়, তা নিশ্চিতে ‘সম্পত্তি সুরক্ষা কমিটি’ গঠন এবং এই সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালত গঠনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে। ক্ষমতায় যেতে পারলে মন্ত্রিসভায় উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার ওয়াদা করেছে জামায়াত। এ ছাড়া মন্ত্রিসভায় অমুসলিম, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সরকারি টাকার হিসাব জানাতে ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ এবং আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত যে কোনো অভিযোগ জানাতে ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ অ্যাপ চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতা, কূটনীতিক এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতিতে ইশতেহার উন্মোচন করেন। ‘জাতীয় স্বার্থে আপসহীন বাংলাদেশ’ এই স্লোগানে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপসহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতিসহ ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক বৈষম্যহীন সমাজ গঠন এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও যুবকের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন পেশার ২৫০-এর বেশি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে জনগণের মতামতে ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
২৬ অগ্রাধিকার ইশতেহারে
সরকার পরিচালনায় জামায়াত ২৬ বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ১. স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থে আপসহীন রাষ্ট্র গঠন; ২. বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক মানবিক বাংলাদেশ গঠন; ৩. যুবকদের ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রাধান্য; ৪. নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠন; ৫. আইনশৃঙ্খলার সার্বিক উন্নয়নের মাধ্যমে মাদক, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণ; ৬. সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন; ৭. প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ও স্মার্ট সমাজ গঠন; ৮. প্রযুক্তি, নির্মাণ ও কৃষি ও শিল্পসহ নানা খাতে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টি। সরকারি চাকরিতে বিনামূল্যে আবেদন, মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ ও বৈষম্য দূরীকরণ; ৯. ব্যাংকসহ সার্বিক আর্থিক খাতে সংস্কারের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে এনে বিনিয়োগ ও ব্যবসাবান্ধব টেকসই ও স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণ করা হবে।
ইশতেহারেও সংখ্যানুপাতিক নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। ১০ নম্বর অগ্রাধিকারে বলা হয়েছে, পিআর পদ্ধতিতে সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা শক্তিশালী করে সুসংহত ও কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করা।
১১ নম্বর অগ্রাধিকারে রয়েছে, রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া খুন, গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার ও মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করা। ১২. জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস সংরক্ষণ, শহীদ পরিবার, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী জুলাইযোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন।
১৩ নম্বর অগ্রাধিকারে রয়েছে কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার ও কৃষকদের সহযোগিতা বৃদ্ধি। ২০৩০ সালের মধ্যে নিরাপদ খাদ্য নিরাপত্তা এবং পরিবেশগত অবক্ষয়ের শূন্যতা, বর্জ্যের শূন্যতা এবং বন্যা-ঝুঁকির শূন্যতা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি রয়েছে অগ্রাধিকারের ১৪ নম্বরে। এর মাধ্যমে ‘সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ’ গড়ার কথা বলছে জামায়াত।
জামায়াতের ১৫ নম্বর অগ্রাধিকারে রয়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের পাশাপাশি ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠা করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের মাধ্যমে ব্যাপক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরি। শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কাজের পরিবেশ; বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টির অঙ্গীকার রয়েছে অগ্রাধিকারের ১৬ নম্বরে।
১৭ এবং ১৮ নম্বরে রয়েছে প্রবাসীদের ভোটাধিকারসহ সকল অধিকার নিশ্চিত করা এবং সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘুর ভিত্তিতে নয়, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুবিধা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি।
আধুনিক ও সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার মাধ্যমে দরিদ্রদের পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ১৯ নম্বর অগ্রাধিকারে। ২০ নম্বর অগ্রাধিকারে রয়েছে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার এবং পর্যায়ক্রমে বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিতের অঙ্গীকার।
অগ্রাধিকারের ২১ থেকে ২৬ নম্বরে রয়েছে, ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজতে রাজধানীর সঙ্গে বিভাগীয় শহরগুলোর দূরত্ব পর্যায়ক্রমে দুই-তিন ঘণ্টায় নামিয়ে আনা, নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য স্বল্পমূল্যে আবাসন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পূর্ণ বিলোপে বিচার ও সংস্কার অব্যাহত রাখা, সর্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু, সকল পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করে কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
৪১ পরিকল্পনা, জোর দুর্নীতি দমনে
আটটি ভাগে জামায়াতের ইশতেহারে ৪১টি পরিকল্পনা রয়েছে। জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষায় দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে প্রথমভাগে শাসনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের পরিকল্পনা। এর একটি হলো প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার জবাবদিহিতায় কাউন্সিল গঠন।
রাজনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের পরিকল্পনায় রয়েছে অন্যান্য দলের সঙ্গে আলোচনায় প্রতিহিংসা প্রতিশোধ বন্ধ করা। বিরোধী দলকে সংখ্যানুপাতের বেশি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ দেওয়া, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে সুসংহত করা, প্রত্যেক নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি রয়েছে পরিকল্পনায়।
স্থানীয় সরকারের স্বাধীনতায় সিটি গভর্ন্যান্স চালু এবং জেলা-উপজেলা পরিষদের সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। দুর্নীতি প্রতিরোধে সব পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের হিসাব প্রকাশ, সরকারি অর্থের হিসাব জানতে নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত ‘আমার টাকা আমার হিসাব’ অ্যাপ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত।
পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভামুক্ত রাখা, যে কোনো অভিযোগ জানাতে ‘ডিজিটাল পাহারাদার’ অ্যাপ চালু, নিবর্তনমূলক ও মানবাধিকারবিরোধী আইন সংস্কার, ধর্মভিত্তিক ব্যক্তিগত আইন সংস্কার, গ্রামীণ আদালত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো উদ্ঘাটন ও নিষ্পতির জন্য জাতিসংঘের কারিগরি সহায়তায় ট্রুথ ও হিলিং কমিশন গঠনের পরিকল্পনা জানিয়েছে জামায়াত। গণমাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতা এবং সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো হালনাগাদ করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা নীতি প্রণয়ন, সামারিক গবেষণা, গোয়েন্দা সংস্থার আধুনিকায়ন, তরুণদের সামারিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। নিরাপদ ও সবুজ জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি, সৌর জ্বালানিতে রূপান্তর, পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে জামায়াতের। তৃতীয় ভাগে রয়েছে আর্থিক খাতের সংস্কার। এতে বলা হয়েছে, ২০৪০ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার দুই ট্রিলিয়নে উন্নীত করা হবে। রাজস্ব বৃদ্ধি করে সরকারি ব্যয় জিডিপির ২০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। খেলাপি ঋণে সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ই-কমার্স অবকাঠামো চালুর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন বৃদ্ধি, দেশীয় বস্ত্র ও পাট শিল্পকে সুরক্ষা, ওষুধ ও গাড়ি শিল্পে নীতি-সহায়তা, বিদেশে যাওয়ার খরচ কমানো এবং সরকারি কেনাকাটায় দরপত্র স্বচ্ছ করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে।
দক্ষতা কর্মসূচির আওতায় জেলাভিত্তিক প্রশিক্ষণ, বছরে ৫০ লাখ তরুণের বিদেশে কর্মসংস্থান, কৃষিকে রপ্তানিমুখী করা, কৃষিজমির সুরক্ষা, গরিব জনগোষ্ঠীর জন্য রেশনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত।শিক্ষা বাজেট জিডিপির ৬ শতাংশ করা, শিক্ষার আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মান যাচাই আন্তর্জাতিকীকরণের পরিকল্পনা জানিয়েছে জামায়াত। রোগী-চিকিৎসক-নার্স অনুপাত ঠিক করা, ঢাকায় চাপ কমাতে জেলায় ওয়ান স্টপ হাসপাতাল চালু, সব হাসপাতালে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াত সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি রয়েছে ইশতেহারে। বাংলাদেশ বীমা যোগাযোগে হাব চালু, পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা, ৫০০ স্মার্ট শহর গড়ার পরিকল্পনা জানিয়েছে জামায়াত।
তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়া এবং ক্রীড়া খাতকে সিন্ডিকেটমুক্ত করা, সুলভ মূল্যে এআই, ইন্টারনেটের প্রতিশ্রুতি রয়েছে জামায়াতের ইশতেহারে।
নারীকে গুরুত্ব দিয়ে অষ্টম ভাগজুড়ে রয়েছে নারী ও শিশু। নারীর জন্য বিশেষ বাস, সব প্রতিষ্ঠানে ডে-কেয়ার, নারীর খেলাধুলায় জেলায় জেলায় নারী স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্রীড়া প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালুসহ ১৭টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ইশতেহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ শরিক দলের নেতারা ছিলেন। ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কুটনীতিকরা।
জামায়াতের আমির সূচনা বক্তব্যে বলেছেন, ‘আমরা রাজনীতিতে বলি, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। কিন্তু ৫৪ বছরে সেই স্লোগানের স্বাক্ষর দিতে পেরেছি? ইশতেহার কেবল দলীয় কর্মসূচি না, বরং জাতির প্রতি দলের পরিকল্পনা; এটি একটি জীবন্ত দলিল। জামায়াত তা বাস্তবায়ন করবে।’
আরও পড়ুন দেশে চক্ষু সেবায় বড় ঘাটতির, ঝুঁকি বাড়ছে অন্ধত্বের
ঢাকাভয়েস/এই


No comments