বিএনপি জোটের প্রার্থীদের পেশা ব্যবসা, জামায়াতের চাকরি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকার পাঁচটি আসনে প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিএনপি জোটের প্রার্থী বেশির ভাগের পেশা ব্যবসা। জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থীদের পেশা চাকরি। বিএনপির প্রার্থীদের আয় অন্যদের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই বেশি।
বিএনপির চেয়ারপারসনের (খালেদা জিয়া, প্রয়াত) উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান ঢাকা-২ আসনে দলের প্রার্থী। তাঁর নগদ অর্থ ৩৩ লাখ টাকা। স্ত্রীর আছে ৫ কোটি ২৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কৃষি, বাড়ি ভাড়া ও ব্যবসা থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ৫১ লাখ টাকা। পেশা ব্যবসা। অস্থাবর সম্পদ আছে ১ কোটি ৯২ লাখ ৯৩ হাজার টাকার। তাঁর কৃষি, অকৃষি জমি, ভবন ও বাড়ির বর্তমান মূল্য ৩৪ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রীর ১০ কোটি ৫৪ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ আছে। তাঁর নামে বিচারাধীন মামলা ৪টি।
সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের প্রতিষ্ঠান রাওয়া ক্লাবের চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক ঢাকা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী। চাকরি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১ লাখ ৭ হাজার টাকা। নগদ আছে ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা, প্রাইজবন্ড আছে ১ লাখ টাকার। স্ত্রীর আছে ৮৩ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এবং স্ত্রীর নামে আছে ১৭ লাখ ৮১ হাজার টাকার। মিরপুর ডিওএইচএসে আবদুল হকের একটি অ্যাপার্টমেন্ট আছে। সেটির মূল্য ১ কোটি টাকা।
ইশরাক হোসেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকরি থেকে তাঁর বছরে আয় ৬২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। বাড়ি ভাড়া থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার এবং শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে বছরে আয় ৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা। নগদ অর্থ আছে ১১ লাখ টাকা এবং ব্যাংকে জমা ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য ৬ কোটি ১৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কৃষি ও অকৃষি জমি আছে ১ কোটি ৬২ লাখ ৩১ হাজার টাকার।
ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল মান্নান। শিক্ষকতা থেকে তাঁর বছরে আয় ৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা। নগদ ১০ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। তাঁর অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৮ লাখ ৭ হাজার টাকা। কোনো ঋণ, বাড়ি ও ফ্ল্যাট নেই। তিনি পিএইচডি করেছেন। তাঁর নামে মামলার সংখ্যা ২১।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী। তিনি ও তাঁর স্ত্রীর পেশা ব্যবসা। তাঁর নগদ আছে ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা, স্ত্রীর নামে ১ কোটি ১০ লাখ ৪২ হাজার টাকা। এ ছাড়া মির্জা আব্বাসের নামে ৭০ কোটি ৩৫ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৩৬ কোটি ৯০ টাকা অস্থাবর সম্পদ আছে। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক, বয়স ৭৫। বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১৫।
জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনে জামায়াতে ইসলামী জোটের প্রার্থী। পেশা মার্কেটিং কনসালট্যান্ট। চাকরি থেকে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৩৩৩ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তাঁর হাতে নগদ ২৫ লাখ টাকা এবং স্ত্রীর নামে আছে ৫ লাখ টাকা। স্বামী-স্ত্রী মিলে তাদের ২২ লাখ টাকার গহনা আছে। তাঁর নামে কোনো বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট নেই। ব্যাংকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ৮ হাজার ২৭৫ টাকা জমা আছে; স্ত্রীর নামে আছে ৬ লাখ ১৯ হাজার ৯৮০ টাকা। ৪০ হাজার টাকার ইলেকট্রিক পণ্য ও আসবাব আছে এক লাখ টাকার। সম্পদ ৪০ লাখ টাকার।
ঢাকা-১২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। বর্তমান পেশা রাজনীতি, লেখক, টকশো ও কৃষি। তাঁর নামে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। সাইফুল হকের স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট সম্পদের মূল্য এক কোটি ৬৭ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ টাকা। স্ত্রীর নামে সম্পদ আছে ২ কোটি ৬৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৮ টাকার। তাঁর স্ত্রীর নামে একটি অ্যাপার্টমেন্ট এবং নিজের নামে একটি গাড়ি ও পৈতৃক সূত্রে পাওয়া এক একর কৃষিজমি আছে।
ঢাকা-১২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. সাইফুল আলমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমএসএস। তিনি চাকরি থেকে অবসরপ্রাপ্ত। তাঁর নামে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি ফৌজদারি মামলা থাকলেও সেটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি।
ঢাকা-১৫ আসনের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা এমবিবিএস। পেশায় চিকিৎসক। তাঁর নামে ৩৪টি ফৌজদারি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়েছে। বর্তমানে দুইটি মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত। বাকি ৩২টি মামলা থেকে খালাস, অব্যাহতি পেয়েছেন অথবা প্রত্যহার হয়েছে।
শফিকুর রহমানের বিদেশে সম্পদ নেই। দেশে মোট সম্পদ প্রায় দেড় কোটি টাকার। বার্ষিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা। নগদ আছে ৬০ লাখ। আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা। আয়কর দিয়েছেন ৩০ হাজার টাকা। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি আছে ২১৭ শতক, মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। অকৃষি জমি আছে ১৩ শতক, মূল্য ২ লাখ ৫৪ হাজার ৮৩৪ টাকা। ১১ দশমকি ৭৭ শতক জায়গায় একটি আবাসিক ভবন আছে, যেখানে ডুপ্লেক্স বাড়ি করা হয়েছে। মূল্য ধরা হয়েছে ২৭ লাখ টাকা। কৃষি থেকে তাঁর আয় ৩ লাখ টাকা। অন্যান্য খাত থেকে আয় ৬০ হাজার টাকা।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে জামায়াত আমিরের হাতে নগদ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। ব্যাংকে আছে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয় এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। মোটরযান আছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার। স্ত্রী আমেনা বেগম গৃহিণী; তাঁর কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। তিন সন্তানের সকলের আয় রয়েছে।
ঢাকা-১৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খানের শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। তাঁর পেশা ব্যবসা। তাঁর নামে ৫০টি ফৌজদারি মামলা আছে। সব মামলা থেকে অব্যাহতি, খালাস অথবা প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়ের গেজেটপ্রাপ্ত। তাঁর মোট সম্পদের মূল্য ৯৫ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
আরও পড়ুন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের পথপ্রদর্শক খালেদা জিয়া
ঢাকাভয়েস/এই

No comments