ক্রিকেটের ঘরে-বাইরে অশান্তি
একরাশ অনিশ্চয়তা আর হতাশার ক্লান্তি নিয়ে উদাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন বাইশ গজের দিকে; যেখানে তখন বিপিএলের দুই দলের অধিনায়ক টস করতে আসার কথা সেখানে তখন একা দাঁড়িয়ে বিসিবিপ্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল। বড্ড একা লাগছিল তাঁকে। উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছিল, যে উদ্বেগ ব্যক্তিগত মনে হলেও আদতে তা সামগ্রিক দেশের ক্রিকেটের।
একদিকে টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণের অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের বিদ্রোহ–ঘরে-বাইরের অশান্তির এই আগুন নিয়ে এই মুহূর্তে গভীর সংকটে দেশের ক্রিকেট। বিসিবিপ্রধান হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দিকে তাকিয়ে সবাই। তিনি কি পারবেন সব সমস্যার সমাধান করতে, কিংবা তাঁর হাতেই কি সবকিছু করার ক্ষমতা আছে?
বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে যে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কিংবা যেভাবে ক্রিকেটাররা কোনো বৈশ্বিক ট্রফি আনতে পারনেনি বলে খোঁচা দিয়েছেন–একজন সাবেক ক্রিকেটার হিসেবে সেই হুল তো আমিনুল ইসলাম বুলবুলের গায়েও লাগার কথা। যদিও তিনি এই ব্যাপারে নিশ্চুপ। এতোটাই নীরব যে ক্রিকেটারদের চলমান সংকটে তিনি কোয়াবের সভাপতি মিঠুনকে কোনো ফোনও দেননি।
জানতে চাননি কেন ক্রিকেটাররা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন? তবে বুধবার রাতে ক্রিকেটারদের হোটেলে তিন প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন তিনি। সেখানেও বিসিবি প্রতিনিধিরা নাজমুল ইসলামকে নিয়ে তাদের অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন।
তবে তখনও তাঁকে পরিচালক পদ থেকে সরানোর ব্যাপারে বিসিবির গঠনতন্ত্রের নিয়ম ব্যাখ্যা করে তারা অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন। যদিও গঠনতন্ত্রে আটটি নিয়ম আছে কোনো পরিচালককে অপসারণ করানোর। মানসিক ভারসাম্যহীনতা, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি, অসুস্থতার মতো কারণ থাকলে কাউকে অপসারণ করা যায়।
মিঠুন-সোহানরা বিসিবি প্রতিনিধি দলকে জানিয়ে দেন এই বোর্ড থেকেই ফারুক আহমদেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তাহলে নাজমুলকে কেন সরানো যাবে না? উত্তর দিতে পারেনি বিসিবি প্রতিনিধি দল। সেই রাতে বিসিবি কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি, বরং ক্রিকেটারদের বলে দেওয়া হয় যদি বিপিএল না খেলে তাহলে বাকি অর্থ নাও পেতে পারেন তারা।
ক্রিকেটাররা আশা করেছিলেন বিসিবিপ্রধান হিসেবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল অন্তত একটি বার হলেও তাদের সঙ্গে কথা বলবেন। অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়াবেন। তিনি তা করেননি। যদিও গতকাল বিকেলের দিকে বিসিবি বিবৃতি পাঠিয়ে জানিয়ে দেয় বিতর্কিত সেই পরিচালক নাজমুল ইসলামকে বিসিবির সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে করে ক্রিকেটে গৃহদাহ কিছুটা শান্ত হলেও বিপিএল মাঠে গড়ানোর অনিশ্চয়তা কাটেনি। ক্রিকেটবিশ্বে এরই মধ্যে চাউর হয়ে গেছে বাংলাদেশের ঘরোয়া ক্রিকেটারদের ম্যাচ বয়কটের কথা।
শঙ্কা কাটেনি ঘরের বাইরে আইসিসির সঙ্গে টি২০ বিশ্বকাপের ভেন্যু বদলের ইস্যুটিও। যদিও এ সিদ্ধান্তটি যে বিসিবির হাতে নেই সেটি আমিনুল ইসলাম বুলবুল আগেই জানিয়ে দিয়েছেন। ক্রিকেটারদের বিদেশ সফরের ব্যাপারে সরকারের কাছ থেকে যে অনাপত্তিপত্র নিতে হয় সেটি ভারত সফরে জন্য দেওয়া হবে না।
আইসিসির সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বিসিবির পক্ষ থেকে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাবে না বাংলাদেশ। এখন আইসিসি থেকে বিসিবির মূল্যায়ন পর্যবেক্ষণ রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে; যা কিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া দিতে পারবেন না আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এবারের বিশ্বকাপ যদি নাই খেলা হয় বাংলাদেশের তাহলে ভবিষ্যতে আরও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে বিসিবি।
এ বছরই এপ্রিলে নিউজিল্যান্ড, জুনে অস্ট্রেলিয়া, সেপ্টেম্বরে ভারত আর নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দলগুলোর আসার কথা রয়েছে বাংলাদেশে। বর্তমান ক্রিকেটে যে অস্থিরতা চলছে তাতে ইমেজ সংকটে পড়তে পারে বিসিবি। সেখানে এই মুহূর্তে অনেক মানুষের ভিড়েও আমিনুল ইসলাম বুলবুল বড্ড একা! শূন্যতা তাঁর চারপাশে। যদিও তিনি তা বুঝতে পারছেন না।
আরো পড়ুন - শুরু হচ্ছে বিপিএল, যেভাবে সূচি সমন্বয় হলো
ঢাকাভয়েস/এই

No comments