Adsterra

লোড হচ্ছে...

বিড়াল-কুকুরের আঁচড় বা কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি: কখন টিকা নেবেন

 

বিড়াল-কুকুরের আঁচড় বা কামড়ে জলাতঙ্কের ঝুঁকি: কখন টিকা নেবেন,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

অনেক পরিবারে বিড়াল বা কুকুর পোষা প্রাণী হিসেবে থাকে। আবার পাড়া-মহল্লায় মনিব-হীন কুকুর-বিড়ালের উপস্থিতি সাধারণ ঘটনা।

শিশুরা এসব প্রাণীর সঙ্গে খেলতে গিয়ে বা খাবার দিতে গিয়ে কখনও কখনও আঁচড় বা কামড়ের শিকার হয়।

উত্ত্যক্ত করলে প্রাণীরা প্রতিক্রিয়ায় কামড়াতেও পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, প্রত্যেকটি আঁচড় বা কামড়েই কি জলাতঙ্কের টিকা নিতে হবে?

এ বিষয়ে জানালেন গুলশান পেট ক্লিনিকের প্রাণী চিকিৎসক ডা. অমিতাভ বিশ্বাস এবং ডা. মনিকা আক্তার রুনা।

জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত আক্রান্ত প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়ায়। তবে সব বিড়াল বা কুকুরের আঁচড়-কামড়েই জলাতঙ্ক হয় না।

প্রাণীটি যদি জলাতঙ্ক ভাইরাস বহন না করে, তাহলে ঝুঁকি থাকে না।

বিশেষ করে পোষা প্রাণী যদি নিয়মিত জলাতঙ্কের টিকা পেয়ে থাকে, তাহলে তার আঁচড় বা কামড়ে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।

প্রাণীটির টিকার ইতিহাস অজানা হলে ক্ষতের ধরন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা অনুসারে, এই ‘এক্সপোজার’কে তিনটি বিভাগে ভাগ করা হয়-

প্রথম: শুধু স্পর্শ বা অক্ষত ত্বকে লালা লাগা। এ ক্ষেত্রে কোনো টিকা বা চিকিৎসার প্রয়োজন নেই।

দ্বিতীয়: ত্বকে আঁচড় বা ছোটখাটো কামড় যাতে রক্তপাত হয় না। এ ক্ষেত্রে ক্ষত পরিষ্কার করে টিকা নিতে হয়।

তৃতীয়: ত্বক ভেদ করে কামড়, গভীর আঁচড় বা রক্তপাতসহ ক্ষত, অথবা মুখমণ্ডল বা ঘাড়ের কাছে আঘাত। এ ক্ষেত্রে ক্ষত পরিষ্কারের পাশাপাশি টিকা এবং ‘ইমিউনোগ্লোবুলিন’ ইঞ্জেকশন প্রয়োজন।

যে কোনো ক্ষত হলে প্রথমে করণীয় হল- ক্ষতস্থান ভালোভাবে পরিষ্কার করা

সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ধরে ঘষে ধুতে হবে। এরপর আয়োডিন বা অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ লাগিয়ে ক্ষত খোলা রাখতে হবে; ব্যান্ডেজ করা উচিত নয়।

এই প্রাথমিক পরিষ্কারকরণ ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমায়।

প্রাণীর লালা যদি আগে থেকে ক্ষতস্থানে লাগে (যেমন- চেটে দেওয়া), তাহলেও একই নিয়মে পরিষ্কার করে টিকা নিতে হয়।

তবে অক্ষত ত্বকে লালা লাগলে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার দরকার নেই; সাধারণভাবে হাত-পা ধুয়ে নিলেই যথেষ্ট।

বাংলাদেশে সরকারি হাসপাতালে জলাতঙ্কের টিকা মানুষের জন্য বিনামূল্যে পাওয়া যায়। আর প্রাণীর জন্য হলে ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা নেয়।

কিছু কিছু ক্লিনিক পোষা প্রাণীদের জন্য ফ্রি ‘র‌্যাবিস টিকা ক্যাম্পেইন’ করে থাকে।

ইন্ট্রাডার্মাল পদ্ধতিতে তিন ডোজ বা ইন্ট্রামাসকুলার পদ্ধতিতে চার ডোজ দেওয়া হয়।

ক্যাটাগরি তিনের ক্ষেত্রে প্রথম দিন ‘ইমিউনোগ্লোবুলিন’ প্রয়োজন। টিকা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নেওয়া উচিত।

গুলশান পেট ক্লিনিকের উদ্যোক্তা ও পেট কাউন্সেলর এসেম জাহান শাম্মী পরামর্শ দিয়েছেন, যারা লালন পালন করেন বা এর সঙ্গে জড়িত বা যারা এ পেশায় যারা আছেন তারা সর্তকতা মুলক আগেই র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়ে রাখতে পারেন।

জলাতঙ্ক প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হল- এলাকার সব কুকুর-বিড়ালকে টিকা দেওয়া এবং প্রয়োজনে বন্ধ্যাকরণ।

স্থানীয় প্রশাসন বা প্রাণী চিকিৎসকের সহায়তায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। এতে পরিবার ও সম্প্রদায় নিরাপদ থাকবে।

প্রাণীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করুন। অকারণে উত্ত্যক্ত বা আঘাত করলে তারা প্রতিক্রিয়া দেখায়। শিশুদেরও এ বিষয়ে শিক্ষা দিন।

খাবার ও আদর দিয়ে প্রাণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুললে কামড়ানোর ঘটনা কমে। আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনতা বজায় রাখুন; জলাতঙ্ক প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ।

 আরও পড়ুন  বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের পথপ্রদর্শক খালেদা জিয়া    

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.