মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বিক্রি নিয়ে ইসরায়েলের উদ্বেগ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইসরায়েলের ‘গুণগত সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব’ (কিউএমই) বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন ও আরব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব ও কাতারের কাছে বড় ধরনের অস্ত্র বিক্রির পরিকল্পনা এই প্রেক্ষাপটে নেওয়া হচ্ছে।
ইসরায়েল এই বিক্রির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছে। তাদের বিশ্বাস, এই অঞ্চলেই তাদের আধিপত্যের মান হ্রাস পেতে পারে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে গোপন বৈঠক চলছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা কংগ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েল সরকারের উদ্বেগ শোনার জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ইসরায়েল সফর করেছেন।
মার্কিন কর্মকর্তারা আশা করছেন, বছরের শেষ নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যখন ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন, তার আগে সমস্ত পরিকল্পনা প্রস্তুত থাকবে। তবে আরব কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই বছরের মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো নাও হতে পারে।
গত নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প নিশ্চিত করেছেন, তার প্রশাসন সৌদি আরবের কাছে অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি করবে। ট্রাম্প প্রকাশ্যে বলেছেন, ইসরায়েল কিছুটা কম শক্তিশালী বা ‘লো-ক্যালিবার’ বিমান পাওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে তিনি সৌদি যুবরাজকে বলেছেন, দুই দেশেরই সেরা মানের সরঞ্জাম পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্পের কথায় উল্লেখ, যুক্তরাষ্ট্র কাতারের কাছে এফ-৩৫ বিক্রিরও আলোচনা করছে। এটি ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে।
বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরব প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে কাজ করছে। স্বাক্ষরিত হলে সৌদি আরব দ্রুত অত্যাধুনিক অস্ত্র সংগ্রহ করতে পারবে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এখনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করেননি। তবে প্রশাসন কংগ্রেস সদস্যদের সমর্থন পেতে চেষ্টা করছে।
১৯৭৯ সালে মিসর ও ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গীকার করেছিল, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব রক্ষা করবে। ২০০৮ সালে এই অঙ্গীকার আইনে পরিণত হয়। এফ-৩৫ বিমানে ইসরায়েলকে বিশেষ অনুমতি রয়েছে, যেমন অতিরিক্ত জ্বালানি রাখার ব্যবস্থা, যাতে রাডারে ধরা না পড়ে এবং প্রয়োজন হলে ইরানে হামলা চালাতে পারে।
গত জুনে ইরানে আকস্মিক হামলার সময় এই ক্ষমতা ইসরায়েল প্রমাণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় ইসরায়েলের বিশেষ সামরিক সুবিধা রক্ষা করবে। তবে ট্রাম্পের বর্তমান রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি ইসরায়েলের নেতৃত্বের জন্য নতুন চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


No comments