নির্বাচনে নতুন জোট কতটা প্রভাব ফেলবে?
বেশ কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক মনে করছেন, আওয়ামী লীগ বিহীন নির্বাচনি মাঠে এই জোট এককভাবে সাফল্য অর্জন করতে পারবে না। তবে বড় কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হলে কিছু আসনে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ-উর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ জোট এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে সাফল্য পাওয়া কঠিন। তবে বিএনপি বা জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে কিছু সুবিধা হতে পারে।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জুলাই আন্দোলনের নেতা ও ছাত্র আন্দোলন থেকে উঠে আসে। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দলটি রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে। দলের লক্ষ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে কাজ করা।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে সক্রিয়। ২০১২ সালে রাষ্ট্রচিন্তা নামে শুরু হওয়া প্ল্যাটফর্মটি ২০২১ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ২০২৫ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন’ করা হয়। সভাপতি হিসেবে রয়েছেন হাসনাত আবদুল কাইয়ূম।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) মূলত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতাদের উদ্যোগে গঠিত। দলটির প্রতিষ্ঠাতা মজিবুর রহমান মঞ্জু। ২০২০ সালের ২ মে দলটি রাজনৈতিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
জোট নেতারা নতুন হলেও আশাবাদী। তারা মনে করেন, নির্বাচনে মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা নতুন জোটকে সমর্থন করবে। বিজয় না পেলেও দীর্ঘমেয়াদে এই জোট দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত আবদুল কাইয়ূম বলেন, “আমরা শুধু নির্বাচনের জন্য নয়, দেশের রাষ্ট্র সংস্কারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করব।”
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, “জোট নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা তৈরি করবে। আরও অনেক দল আমাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।”
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন মনে করেন, এই জোট ভোটের মাঠে নিয়ন্ত্রক শক্তি হিসেবে প্রতিপন্ন হবে না। তবে বড় দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় কিছু আসন পেতে পারে। জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হলে সাফল্য সীমিত হবে।
এভাবে নতুন তিন দলের অভিষেক আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক মানচিত্রে কিছু পরিবর্তন আনতে পারে। তবে তাদের প্রভাব মূলত বড় দলগুলোর সঙ্গে কৌশলগত সমঝোতার ওপর নির্ভর করবে।
আরও পড়ুন টিউমার ও ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি
ঢাকাভয়েস/এই


No comments