যে ভিটামিনের অভাবে স্নায়ুর সমস্যা দেখা দিতে পারে
বয়স পঞ্চাশ পেরোতেই শরীর নিজস্ব সংকেত দিতে শুরু করে। দিনের শেষে হাত-পা অবশ হয়ে আসা, রাতে ব্যথায় ঘুম ভেঙে যাওয়া— অনেকেই ভাবেন, ‘বয়স হয়েছে, স্বাভাবিকই তো।’ কিন্তু এই অস্বস্তিগুলো আসলে ভিন্ন এক ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে। ৫০-এর পর পুরুষদের মধ্যে ভিটামিন বি১২-এর অভাব খুবই সাধারণ, অথচ বেশির ভাগ সময়ই তারা সেটা টের পান না।
স্নায়ুর দুর্বলতা, হাঁটায় ভারসাম্য হারানো, রাতে পা নাড়ানোর প্রবণতা, ঘুমের ব্যাঘাত; সব কিছুর নেপথ্যে থাকতে পারে এই একটি ভিটামিন। সময় মতো গুরুত্ব না দিলে ছোট ছোট সমস্যা পরবর্তী সময় বড় জটিলতায় রূপ নিতে পারে।
মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখা, স্মৃতিশক্তি রক্ষা, চিন্তাশক্তি সক্ষম রাখা, এমনকি আলঝেইমার্সের ঝুঁকি কমানো—এসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ভিটামিন বি১২। পাশাপাশি লোহিত রক্তকণিকা তৈরিতেও এটি প্রয়োজনীয়।তাই সার্বিক সুস্থতার জন্যই এই ভিটামিন অপরিহার্য। বি১২-এর ঘাটতি ধীরে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে উপসর্গগুলো বাড়তে থাকে। সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো—
হাত বা পায়ের তলা, পেশি বা স্নায়ুতে ঝিঁঝির মতো অনুভূতি হলে বি১২-এর অভাবের ইঙ্গিত হতে পারে।
মাত্রা কমে গেলে পায়ে টান, ভারী ভাব, হাঁটা বা সিঁড়ি ভাঙতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
মস্তিষ্কের সংকেত পাঠানো ব্যাহত হওয়ায় হাঁটায় টলমল ভাব দেখা যায়—বিশেষত ৫০-এর পর।
বিশেষ করে রাতে পা নাড়ানোর প্রবণতা বেড়ে যায়, ফলে ঘুম ব্যাহত হয় এবং পরদিন ক্লান্তি দেখা দেয়।
পেরিফেরাল নিউরোপ্যাথির কারণে পায়ে হালকা থেকে তীব্র জ্বালা বা ব্যথা হতে পারে, যা রাতের দিকে বাড়ে।
স্নায়ু ক্ষতির কারণে পায়ের ব্যথা রোজকার কাজে অসুবিধা সৃষ্টি করতে পারে।
লোহিত রক্তকণিকা কমে গিয়ে শরীরে রক্তপ্রবাহ কমে যায়। ত্বক ফ্যাকাসে বা হলুদাভ হয়, সাথে শ্বাসকষ্ট ও দুর্বলতা দেখা দেয়।
ব্যথা, টান ধরা, রেস্টলেস লেগ—এসব কারণে রাতের ঘুম নষ্ট হয়, আর পরের দিন থাকে ক্লান্তি ও খারাপ মুড।ইমিউনিটি থেকে শুরু করে স্নায়ুর সুস্থতা সব কিছুর সঙ্গেই জড়িয়ে আছে ভিটামিন বি১২। তাই ৫০-ঊর্ধ্ব পুরুষদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুষ্টির যত্ন নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন টিউমার ও ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি
ঢাকাভয়েস/এই


No comments