নতুন বছরে খরচ কমানোর কার্যকর ১০ কৌশল
মূল্যস্ফীতির চাপে নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব জিনিসপত্রের দাম বেড়ে গেছে। আয় বাড়ছে না, অথচ খরচের চাপ বাড়ছেই। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বছরে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য ঠিক রাখতে হলে এখনই খরচ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা জরুরি। সামান্য সচেতনতা ও সঠিক পরিকল্পনাই বছরের শেষে সঞ্চয় বাড়াতে এবং আর্থিক স্বস্তি এনে দিতে পারে।
নতুন বছরের শুরুতেই মাসভিত্তিক বাজেট তৈরি করা সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। মাসিক আয় কত, তা নির্ধারণ করে বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অন্যান্য খাতে সম্ভাব্য খরচ আগেই লিখে রাখা উচিত। লিখিত বাজেট থাকলে হঠাৎ অপ্রয়োজনীয় খরচে লাগাম টানা সহজ হয় এবং মাস শেষে হিসাব মিলানোও সুবিধাজনক হয়।
আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খরচের একটি সীমা নির্ধারণ করা জরুরি। যেমন মাসিক আয় যদি ৫০ হাজার টাকা হয়, তাহলে খরচের লক্ষ্য রাখা যেতে পারে ৪০ থেকে ৪২ হাজার টাকার মধ্যে। অবশিষ্ট অংশ সঞ্চয়ের জন্য রেখে দিলে ধার করার প্রবণতা কমে এবং আর্থিক নিরাপত্তা বাড়ে।
খরচ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন আর শখ আলাদা করে দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চাল-ডাল, বাসাভাড়া বা সন্তানের পড়াশোনা প্রয়োজনীয় খরচের মধ্যে পড়ে। আর নতুন ফোন কেনা বা ব্র্যান্ডের পোশাক শখের খরচ। বাজেটে আগে প্রয়োজনীয় খাত পূরণ করে পরে শখের বিষয়গুলো বিবেচনায় আনলে আর্থিক চাপ কমে।
সঞ্চয়কে অগ্রাধিকার দেওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। বেতন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দিষ্ট অঙ্ক আলাদা করে সঞ্চয়ে রাখলে তা খরচ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। মাসের শুরুতেই পাঁচ হাজার টাকা সঞ্চয়ে রাখার অভ্যাস গড়ে তুললে বছরের শেষে উল্লেখযোগ্য অঙ্ক জমে যায়।
জরুরি খরচের জন্য আলাদা তহবিল গঠন করলে হঠাৎ বিপদে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হয় না। অসুস্থতা বা জরুরি ভ্রমণের জন্য অন্তত দুই থেকে তিন মাসের খরচের সমান টাকা জমাতে পারলে আর্থিক দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমে।
যাদের একাধিক ঋণ রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বেশি সুদের ঋণ আগে শোধ করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে দীর্ঘমেয়াদে মোট সুদের বোঝা কমে যায় এবং মাসিক চাপও হালকা হয়।
প্রতিদিনের ছোট খরচ লিখে রাখার অভ্যাস করলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় চোখে পড়ে। চা-নাশতা বা রিকশাভাড়ার মতো ছোট খরচ মাস শেষে বড় অঙ্কে দাঁড়ায়। লিখে রাখলে কোথায় খরচ কমানো যায়, তা সহজেই বোঝা যায়।
এ ছাড়া নিয়মিত বিল ও সাবস্ক্রিপশন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। যেসব সেবা ব্যবহার হয় না, সেগুলো বন্ধ করলে মাসিক খরচ কমে। কেনাকাটার সময় তালিকা তৈরি করে বাজারে গেলে অপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনা এড়ানো যায়।
মাস শেষে বাজেট পর্যালোচনা করাও জরুরি। কোন খাতে বেশি খরচ হয়েছে, তা দেখে পরের মাসে সংশোধন আনলেই বাজেট কার্যকর থাকে।
আরও পড়ুন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের পথপ্রদর্শক খালেদা জিয়া
ঢাকাভয়েস/এই

No comments