একাকিত্বের সঙ্গী হতে পারে বিড়াল
একাকিত্বের এই যুগে অনেকেই খোঁজেন এক নির্ভরযোগ্য সঙ্গী, যা শুধু ভালোবাসা দেয় না, মানসিক প্রশান্তি এবং শারীরিক সুস্থতাও নিশ্চিত করে।
পোষা বিড়াল ঠিক তেমনই এক সঙ্গী। একটি শান্ত বিকেলে জানালার ধারে বসে থাকা একাকী মানুষের কোলে উঠে বিড়ালের গরগর শব্দ মুহূর্তে মনের ভার লাঘব করে।
এটি কোনো কল্পকাহিনী নয়, বরং বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত বাস্তবতা।
বিড়াল পোষা মানুষের জীবনে এটি শুধু সঙ্গী হয়ে ওঠে না, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য এক ধরনের প্রাকৃতিক থেরাপি প্রদান করে।
বিড়ালের উপস্থিতি জীবনে প্রশান্তি আনে, একাকিত্ব দূর করে এবং শরীরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটায়।
মানসিক স্বাস্থ্যে বিড়ালের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা সঙ্গ প্রদান করে, নিঃসঙ্গতা ও উদ্বেগ হ্রাস করে। বিড়ালের খেলাধুলা, আচরণ এবং মজার কাণ্ড মানুষের মুখে হাসি ফোটায়।
বিড়াল পোষা ব্যক্তিরা অন্যদের তুলনায় কম একাকিত্ব অনুভব করেন। শান্ত বা বন্ধুত্বপূর্ণ স্বভাবের বিড়াল মালিকদের প্রতি আরও গভীর আবেগ সৃষ্টি করে। শারীরিক স্বাস্থ্যেও বিড়ালের উপকারিতা উল্লেখযোগ্য।
‘ওয়াশিংটন স্টেট ইউনিভার্সিটি’র করা গবেষণায় দেখা গেছে, বিড়ালের সঙ্গে সময় কাটালে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা কমে, যা চাপ ও উদ্বেগের জন্য দায়ী। এছাড়া হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে।
এই গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, মাত্র ১০ মিনিট বিড়ালের সঙ্গে খেললে মন শান্ত হয় এবং শরীরের ছন্দ ফিরে আসে।
বিড়াল-পোষা দম্পতিরা মানসিক চাপের পরিস্থিতিতেও স্থির থাকেন, তাদের হৃৎস্পন্দন ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রিত থাকে।
বিড়ালের গরগর শব্দের কম্পন ২৫ থেকে ১৫০ হার্টজের মধ্যে থাকে, যা বিশেষ করে ২৫ থেকে ৫০ হার্টজ ফ্রিকোয়েন্সিতে হাড় ও পেশির পুনর্গঠনে সহায়ক। এটি হাড়ের দ্রুত সেরে ওঠায় ভূমিকা রাখে।
বিড়াল-পোষা ব্যক্তিরা প্রায়শই কল্পনাপ্রবণ, কৌতূহলী ও সংবেদনশীল হয়ে ওঠেন।
বিড়াল রুটিন তৈরি করে, যা মানসিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। অনেকে বিড়ালকে বাইরে নিয়ে যান, যাতে প্রাণীটি প্রকৃতির সান্নিধ্য পায় এবং মালিক মানসিক প্রশান্তি লাভ করেন।
এছাড়া ‘ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো বউল্ডার’য়ের করা গবেষণায় প্রমাণ মিলিছে যে- হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিড়ালের ভূমিকা রয়েছে।
বিড়ালপোষা ব্যক্তিদের হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম।
সব মিলিয়ে, বিড়াল পোষা কেবল ভালোবাসা বা সঙ্গ নয়, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত স্বাস্থ্যকর অভ্যাস।
তাই বিড়াল-প্রেমীদের জন্য সুখবর হল— আপনারা বিড়াল শুধু ভালোইবাসেন না, বরং নিজেকে সুস্থ রাখতেও সাহায্য করেন।
আরও পড়ুন বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নের পথপ্রদর্শক খালেদা জিয়া
ঢাকাভয়েস/এই

No comments