Adsterra

লোড হচ্ছে...

পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে পানি শোধনাগারের যন্ত্রপাতি

 

পড়ে থেকেই নষ্ট হচ্ছে পানি শোধনাগারের যন্ত্রপাতি, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

কথা ছিল পানির গুণগত মান নির্ণয় করে নাগরিকদের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি। জনবল নিয়োগ না হওয়ায় শেরপুরের পানি শোধনাগারটি গত তিন বছরেও চালু করা যায়নি। এতে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে বানানো সরকারি এই প্রকল্পটি মানুষের কোনো কাজেই আসছে না।

সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে ২০২২ সালে শেরপুর শহরের চকপাঠক পূর্বশেরী এলাকায় একটি পানি পরীক্ষাগার নির্মাণ করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ‘পানির গুণগত মান পরীক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের আওতায় ৫২ লাখ টাকা ব্যয়ে কেন্দ্রটির ভবন নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ। কিন্তু উদ্বোধন হলেও শুধু জনবল সংকটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি তিন বছরেও চালু করা যায়নি। ফলে কাজে আসছে না অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ভবনটি। অযত্ন-অবহেলায় ভবনের ভেতরে পড়ে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, এই পরীক্ষাগারে পানির ক্লোরাইড, ম্যাঙ্গানিজ, পিএইচ, আয়রন, আর্সেনিকসহ ১০টি পরীক্ষা করার সুযোগ রয়েছে। তবে জনবল না থাকায় সেটি সম্ভব হচ্ছে না। জেলার মানুষকে পানি পরীক্ষার জন্য নির্ভর করতে হচ্ছে ময়মনসিংহের ওপর। ফলে ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের ভোগান্তি বেড়েছে। এ ছাড়া আর্সেনিক থাকা এলাকায় নলকূপ বসানোর পর পানি পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্ভব হচ্ছে না। এতে স্থানীয়রা তাদের অধিকার নিরাপদ পানির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই দ্রুতই পরীক্ষাগারটি চালুর দাবি স্থানীয়দের।চকপাঠক এলাকার বাসিন্দা জলিল মিয়া জানান, পানি পরীক্ষা করার জন্য সরকার এখানে একটি যন্ত্র দিয়েছে। এই যন্ত্রের উদ্বোধনও হয়েছে, কিন্তু কার্যক্রম চালু হচ্ছে না। পানি পরীক্ষা করতে ময়মনসিংহ যেতে হচ্ছে। এতে তাদের ব্যয় ও ভোগান্তি বেড়ে গেছে।অষ্টমীতলা এলাকার বাসিন্দা সবুজ মিয়া বলেন, ‘শুনলাম লোকের অভাবে নাকি এটি চালু হচ্ছে না। তালাবদ্ধ অবস্থায় বছরের পর বছর পড়ে রয়েছে। নষ্ট হচ্ছে জিনিসপত্র। এত টাকা খরচ করে নির্মাণ করা হলো, কিন্তু চালু হবে না, তাহলে নির্মাণ করার দরকার ছিল না।’নালিতাবাড়ী উপজেলার কলসপাড় এলাকার মনিরুজ্জামান জানান, এই এলাকার অনেক জায়গায় আর্সেনিক আছে। মানুষ নিজস্ব নলকূপের পানি পান করে। পানি পরীক্ষা ছাড়াই নলকূপ বসানো হচ্ছে। এই পানিতে মাত্রারিক্ত আর্সেনিক রয়েছে। পানি শোধনাগার নির্মাণের পর তিন বছর ধরে পড়ে আছে। এটি তাদের কোনো উপকারে আসছে না।শেরপুর জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল হোসেনের ভাষ্য, তাদের সবকিছু রয়েছে, কিন্তু জনবল নেই। এ কারণেই পানি পরীক্ষাগারটি চালু করা যাচ্ছে না। জনবল পেলেই এটি চালু করা হবে। ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

 আরও পড়ুন        ‘ভেবেছিলাম, বাঁচার আর আশা নেই’ 

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.