Adsterra

লোড হচ্ছে...

শীতে রস বেচে আয় হবে ছয় লাখ টাকা


শীতে রস বেচে আয় হবে ছয় লাখ টাকা,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

শীতে খেজুর রসে চুমুক দিতে পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুব কম। একসময় গ্রামবাংলার সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল খেজুর রস ঘিরে রকমারি পিঠার পসরা। তবে খেজুর গাছ কমতে কমতে রস আহরণের সেই গ্রামীণ চিরায়ত দৃশ্য এখন খুব কমই চোখে পড়ে।অধিকাংশ গ্রাম থেকে খেজুর গাছ হারিয়ে গেলেও চট্টগ্রামের উপকূলীয় বেড়িবাঁধ এলাকায় দেখা গেছে উল্টো চিত্র। সীতাকুণ্ড উপকূলের বাঁশবাড়িয়া থেকে বগাচত্বর পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের দুইপাশে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি খেজুর গাছ। সেখান থেকে রস আহরণও চলছে সমানতালে। বাঁধ টেকসই করতে খেজুর গাছগুলো লাগিয়েছিল চট্টগ্রাম উপকূলীয় বন বিভাগ। পরিবেশ-প্রকৃতি রক্ষার পাশাপাশি এখন খেজুর রস বিক্রি করে শীত মৌসুমে ছয় লাখ টাকা আয় করছে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি। উপকূলের এক হাজার ৬৪১টি গাছ থেকে পুরোদমে চলছে রস আহরণ আর বিকিকিনি। উপকূলীয় বন বিভাগের সীতাকুণ্ড রেঞ্জ কর্মকর্তা রনি আলী বলেন, সাগর উপকূলে সবুজ বেষ্টনী তৈরি করতে অন্য গাছের সঙ্গে কয়েক হাজার খেজুর গাছও লাগানো হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষায় গাছগুলো মানবঢাল হিসেবে কাজ করছে। এসব খেজুর গাছ বড় হওয়ায় রস আহরণযোগ্য হয়েছে। গাছগুলো থেকে রস আহরণ করতে ছয় লাখ টাকায় গাছিদের অগ্রহায়ণ থেকে মাঘ মাস পর্যন্ত ইজারা দেওয়া হয়েছে। আরও ৫০০ চারা গাছ থাকলেও সেগুলো রস আহরণযোগ্য হয়নি। চট্টগ্রাম নগরের মাদারবাড়ির পাখি গলির বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, সীতাকুণ্ডের ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরই আমাদের সোসাইটিতে ভোরে ড্রামে করে রস এনে বিক্রি করেন। পাঁচ লিটার রস ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। গাছিরা ডাল কাটিং করে বিশেষ কায়দায় বাঁশের কঞ্চির নলের সঙ্গে প্লাস্টিকের বোতল ও কলসি বসিয়ে রস সংগ্রহ করছেন। রাতভর বোতলে এসে রস জমা হচ্ছে। প্রতিদিন বিকেলে রসের হাঁড়ি বসানোর পর প্রথম ধাপে ভোরে রস সংগ্রহ করেন গাছিরা। একটি গাছ থেকে পাওয়া যাচ্ছে চার থেকে পাঁচ লিটার রস। রস নিয়ে বেড়িবাঁধ থেকে বাঁশবাড়িয়া, বাড়বকুণ্ড ও সীতাকুণ্ড বাজারে ছুটে যান গাছিরা। সেখান থেকে চট্টগ্রাম শহরের বিভিন্ন জায়গায় রস সরবরাহ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ধাপে সকাল ৮টায় রস সংগ্রহ করে পরে তা সীতাকুণ্ডের স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। কিছু রস দিয়ে গুড় তৈরি করছেন কেউ কেউ। বাঁধে প্রতি লিটার রস ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়। সেই রস চট্টগ্রাম নগরে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গাছি আবুল কাশেম বলেন, আমি বছরজুড়ে কৃষিকাজ করি। শীত এলে কৃষিকাজের পাশাপাশি গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও বিক্রি করে থাকি। শহরের মানুষ সকাল সকাল টাটকা রস পেলে খুশি হন। দুই সপ্তাহ আগে গাছ কাটিং করা হয়েছে। এখন শীত যত বাড়ছে, রস বেশি পাওয়া যাচ্ছে। বন বিভাগ থেকে নেওয়া ২০০ গাছ থেকে প্রতিদিন রস পাচ্ছি। আরেক গাছি সাদিকুল হাসান বলেন, আমি ও পাঁচ শ্রমিক মিলে প্রতিদিন ১৫০ গাছ থেকে রস সংগ্রহ করছি। ভোরে গাছে ঝুলানো প্লাস্টিকের বোতল থেকে রস সংগ্রহ করে ড্রাম ভরে শহরে নিয়ে যাই। প্রতিদিন ৬০০ থেকে ৭০০ লিটার রস বিক্রি করছি। প্রতি লিটারের দাম রাখছি ৮০ থেকে ১০০ টাকা।

আরও পড়ুন        ‘ভেবেছিলাম, বাঁচার আর আশা নেই’ 

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.