নামাজে সূরা মিলাতে ভুলে গেলে করণীয় কী
একজন ঈমানদারের জন্য নামাজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। ‘কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে। যদি নামাজ ঠিক থাকে, তাহলে বাকি আমলও ঠিক হবে। আর যদি নামাজ খারাপ হয়, তবে বাকি আমলও খারাপ হবে।’ (মুজামে তাবারানি, আউসাত: ১৮৫৯; জামে তিরমিজি: ৪১৩)
ফরয নামাযের প্রথম দুই রাকাতে এবং সুন্নত ও নফল নামাযের সকল রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য কোনো সূরা মিলানো ওয়াজিব। কেউ যদি ভুলে সূরা ফাতেহার পর অন্য কোন সূরা বা কিছু আয়াত পড়তে ভুলে যায়। তাহলে শেষ বৈঠকে সাহু সিজদা করতে হবে। যদি সাহু সিজদা না করে তাহলে নামায সহীহ হবে না।
عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، سَمِعَهُ يَقُولُ سُئِلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفِي كُلِّ صَلاَةٍ قِرَاءَةٌ قَالَ ” نَعَمْ ” . قَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ وَجَبَتْ هَذِهِ . فَالْتَفَتَ إِلَىَّ وَكُنْتُ أَقْرَبَ الْقَوْمِ مِنْهُ فَقَالَ مَا أَرَى الإِمَامَ إِذَا أَمَّ الْقَوْمَ إِلاَّ قَدْ كَفَاهُمْ
১.অর্থ: আবু দারদা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামকে প্রশ্ন করা হলো, প্রত্যেক নামাযে কি কিরাত আছে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এক আনসার ব্যক্তি বলল তা ওয়াজিব। তখন তিনি আমার দিকে লক্ষ্য করলেন, আমি সকলের মধ্যে তার নিকটবর্তী ছিলাম। তিনি বললেন, ইমাম যখন দলের ইমামতি করেন, তখন আমি মনে করি, ইমামই তাদের জন্য যথেষ্ট। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ৯২৩ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ أُنَادِيَ أَنَّهُ لاَ صَلاَةَ إِلاَّ بِقِرَاءَةِ فَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَمَا زَادَ
২.অর্থ: আবু হুরায়রা (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নবীজি আমাকে নির্দেশ দেন যে আমি যেন ঘোষণা করে দেই যে সূরা ফাতেহা ও তার সঙ্গে আল-কুরআনের কিছু অংশ (সূরা বা আয়াত) না মিলালে কিছুতেই নামায বিশুদ্ধ হবে না। (সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৮২০ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ” لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَصَاعِدًا
৩.অর্থ: উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরা ফাতেহার পর অধিক (অন্য সূরা) পড়ল না, তার নামায হয়নি। (সুনানে নাসাঈ হাদীস নং ৯১১ সুনানে আবু দাউদ হাদীস নং ৮২২ হাদীসের মান: সহীহ)
عَنْ ثَوْبَانَ، قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ “ فِي كُلِّ سَهْوٍ سَجْدَتَانِ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ ”
৪.অর্থ: সাওবান (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লামকে বলতে শুনেছি, প্রত্যেক (ওয়াজিব তরকের) ভুলের জন্য সালামের পর দুইটি সাহু সিজদা আদায় করতে হবে। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১০৩৮, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১২১৯)
তাই নামাজ যেন বিশুদ্ধ হয়, এ সংক্রান্ত মাসায়েল ও আহকামগুলো জানা থাকা দরকার। প্রশ্ন হলো- নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতেহার পর ভুলে সুরা না মিলালে নামাজ হবে কি না।
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, ফরজ নামাজ হোক বা সুন্নত, চার রাকাতবিশিষ্ট নামাজ হোক বা দুই রাকাতবিশিষ্ট, নামাজের প্রথম দুই রাকাতে সুরা ফাতেহার পর অন্য সূরা বা কুরআনের কিছু অংশ পাঠ করা ওয়াজিব।
আর ফরজ নামাজে প্রথম দুই রাকাতের কোনো রাকাতে ভুলবশত তা ছুটে গেলে তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সুরা ফাতেহার পর একটি সুরা মিলিয়ে নেওয়া মুস্তাহাব। এক্ষেত্রে সুরা মিলানো হোক বা না হোক সাহু সেজদা করা ওয়াজিব। সাহু সেজদা না করলে প্রথম বা ২য় রাকাতে সুরা না মিলানোর কারণে ওই নামাজ পুনরায় পড়ে নেওয়া ওয়াজিব।
(ফতোয়ায়ে খানিয়া: ১/১১২; বাদায়েউস সানায়ে: ১/৪০৫; খুলাসাতুল ফতোয়া: ২/১৭৫)
আখেরাতে নামাজের হিসাব যেভাবে হবে
ফরজ নামাজে কোনও কমতি দেখা গেলে আল্লাহ তাআলা ফেরেশতাদের বলবেন, ‘দেখ, আমার বান্দার কোনও নফল (নামাজ) আছে কি না।’ অতএব তার নফল নামাজ দ্বারা ফরজ নামাজের ঘাটতি পূরণ করা হবে। তারপর অন্য আমলের হিসাব গ্রহণ করা হবে।’ (আবু দাউদ: ৭৭০; তিরমিজি: ৩৩৭; ইবনে মাজাহ: ১১৭)
ঢাকা ভয়েস /এসএস


No comments