বিশ্বে প্রথম জিন থেরাপি প্রয়োগে সুস্থতার পথে বিরল রোগের শিশু
জিন থেরাপি ও উন্নতি
গত বছরের ডিসেম্বরে অলিভারের চিকিৎসার শুরুতে শরীর থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করা হয়। জিনগত রোগ থামানোর জন্য এটিই ছিল প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ক্লেয়ার হরগান বলেন, একটি উন্নত যন্ত্রের মধ্য দিয়ে অলিভারের রক্ত প্রবাহের সময় স্টেম সেল নামে পরিচিত বিশেষ কোষ সংগ্রহ করা হয়। সেগুলো পরে ল্যাবে নিয়ে পরিবর্তন করে আবার শরীরের দেওয়া হয়।বড় আকারের সুগার মলিকিউল ভেঙে ফেলার জন্য এনজাইম গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু হান্টার সিনড্রোমে জিনগত ত্রুটি থাকায় কোষগুলো আইডিউরোনেট-২-সালফাটেজ (আইডিএস) নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম তৈরি করতে পারে না। ফলে এনজাইমের অভাবে সুগার মলিকিউল ধীরে ধীরে দেহের টিস্যু ও অঙ্গগুলোতে জমতে থাকে।অলিভারের জিন পাঠানো হয়েছিল লন্ডনের গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতালে (জিওএসএইচ)। এখানকার চিকিৎসক ক্যারেন বাকল্যান্ড বলেন, আমরা ভাইরাসের নিজস্ব প্রক্রিয়া ব্যবহার করি। এতে এটি প্রতিটি স্টেম সেলের ভেতরে ত্রুটিপূর্ণ জিনের একটি সক্রিয় কপি ঢুকিয়ে দেয়। স্টেম সেলগুলো আবার অলিভারের দেহে প্রবেশ করানোর পর বোন ম্যারোতে নতুন বসতি গড়ে তোলে। এরপর সেগুলো নতুন শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি করে। তবে ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ারের কারণে এনজাইমের মস্তিষ্কে পৌঁছানোর চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়। এই বাধা উৎড়ানোর জন্য, বিজ্ঞানীরা আইডিএস জিনটি বিশেষভাবে পরিবর্তন করেন।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বেশ কয়েক দফায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে অলিভারের শরীরে স্বচ্ছ তরল প্রবেশ করানো হয়। এতে ছিল পরিবর্তিত স্টেম সেল সমৃদ্ধ প্রায় সাড়ে ১২ কোটি জিন। এর কিছুদিন পর অলিভার তার পরিবারের সঙ্গে ক্যালিফোর্নিয়ায় ফিরে যায়। গত মে মাসে পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে আবার যুক্তরাজ্যে নিয়ে যায় পরিবার। তখন তার কথা বলা ও নড়াচড়ায় ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পান চিকিৎসকরা। আগস্টের শেষ দিকে চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন অলিভারের শরীরে জিন থেরাপি কাজ করছে।চিকিৎসক সাইমন জোন্স বলেন, ‘ট্রান্সপ্ল্যান্টের (প্রতিস্থাপন) আগে অলিভারের শরীরে কোনো এনজাইমই তৈরি হতো না। এখন স্বাভাবিক মাত্রার শতগুণ বেশি এনজাইম তৈরি হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা দেখতে পাচ্ছি সে উন্নতি করছে। শিখছে, নতুন শব্দ বলছে, দক্ষতা অর্জন করছে। আগের তুলনায় অনেক সহজে নড়াচড়া করতে পারছে।’অধ্যাপক জোন্স কিছুটা সতর্কতার সুরে বলেন, ‘আমাদের সাবধান থাকতে হবে। উত্তেজনায় ভেসে যাওয়া ঠিক নয়। তবে এই মুহূর্তে পরিস্থিতি যতটা ভালো হওয়ার কথা, ততটাই ভালো আছে।’
আরও পড়ুন প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
ঢাকাভয়েস/এই


No comments