রায়কে স্বাগত বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপির
শেখ হাসিনাকে ভারতের কাছে ফেরত চায় জামায়াত
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তোষ জানিয়ে সাজা কার্যকরে তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। গতকাল বিকেলে মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিচার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকমানের হয়েছে। এ রায়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। এ রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ সম্পূর্ণ না হলেও, তারা কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন। ট্রাইব্যুনালেই একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতাদের বিচার হয়েছিল শেখ হাসিনার শাসনামলে। তখন দলটি আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও এ রায়ের পর তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের আজকের রায় ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সরকার বা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষমতাবান ব্যক্তিই যে আইনের ঊর্ধ্বে নয়, তা প্রমাণিত হলো। পিলখানা, শাপলা হত্যাকাণ্ড, গুম, আয়নাঘর এবং ক্রসফায়ারের মাধ্যমে হত্যাসহ সব অপরাধের দ্রুত বিচারও দেশবাসীর প্রত্যাশা। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই জামায়াত নেতা বলেন, প্রতিবেশী দেশ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে আশ্রয় দিয়ে অপরাধীর পক্ষাবলম্বন করেছে, যা ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। আন্তর্জাতিক আইন মেনে হাসিনাকে বাংলাদেশে আইনের কাছে সোপর্দ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
এক মাসের মধ্যে রায় কার্যকর করতে হবে: নাহিদ
শেখ হাসিনার বিচারের রায় পৃথিবীতে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত এনে এই রায় কার্যকর করতে হবে। গতকাল বিকেলে বাংলামটরে অবস্থিত এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এনসিপি আহ্বায়ক। নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নয়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ও আমরা কার্যকর চাই। এ ছাড়া যেসব আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ সব ফ্যাসিস্ট, তাদের দোসর এবং যেসব সরকারি কর্মকর্তারা অভিযুক্ত রয়েছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদেরও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। যারা জেলে আছেন, আমরা চাই দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের রায় কার্যকর হোক।এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, রাজসাক্ষী হলেও এই গণহত্যার পেছনে সাবেক আইজিপির হাত রয়েছে। তাই তার পাঁচ বছরের সাজায় আমরা সন্তুষ্ট নই।
মৃত্যুদণ্ডের রায়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়েছে: হেফাজত
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়কে ন্যায়বিচারের প্রতিষ্ঠা হিসেবে অভিহিত করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। গতকাল সংগঠনের আমির মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ও মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে এ প্রতিক্রিয়া জানান।জুলাই গণহত্যা ছাড়াও পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের গণহত্যার বিচারের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরুর দাবি জানিয়ে হেফাজত নেতারা বলেন, ফ্যাসিস্টদের বিচার বানচাল করতে ভারতের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে। সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেওয়া এ রায় শহীদ পরিবারের মনে প্রশান্তি ও ন্যায়বিচারের বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করেছে।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত: আবদুর রব
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডাদেশ রায়ে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় তাৎপর্যপূর্ণ দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব। গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ রায় গণঅভ্যুত্থান-উত্তর আইনের শাসনভিত্তিক কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি। বিশেষত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় নির্ধারণ– জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আন্দোলনের সময় যারা শহীদ হয়েছেন, যারা আহত হয়েছেন, যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং গুমে যারা নিখোঁজ হয়েছেন, তাদের পরিবারগুলোর জন্য এই রায় ন্যায়বিচারের আশ্বাসও বটে।
দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে: কর্নেল অলি
রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল অলি আহমদ বীরবিক্রম (অব.) বলেছেন, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এই রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।
স্বৈরশাসকরাও আইনের ঊর্ধ্বে নয়: সাইফুল হক
বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, এই রায়ে প্রমাণ হয়েছে, স্বৈরশাসকরাও কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মুক্তিযুদ্ধে গণহত্যার বিচার যেমন প্রতিশোধের বিষয় নয়, ২৪-এর হত্যাকাণ্ডের বিচারও কোনো শোধ-প্রতিশোধের বিষয় নয়। হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে না।
টিএসসিতে আনন্দ মিছিল
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল বের করেছেন শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুরে মামলার রায় কার্যক্রম টিএসসিতে বড় পর্দায় সম্প্রচার করা হয়। মিছিলের সামনের সারিতে ডাকসুর নেতারা অংশ নেন। এ ছাড়া হল সংসদের নেতাকর্মীসহ শিক্ষার্থীরা অংশ নেন মিছিলে। শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম। বিকেলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ রায় ঘোষণার পর সেখান থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ দাবি জানান।
বিশ্বের জন্য নজির হয়ে থাকবে: হাদি
ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায়ের পর আদালত থেকে বেরিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, পৃথিবীতে কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়। কোনো স্বৈরশাসক চিরকাল মানুষকে নিপীড়ন করে টিকে থাকতে পারে না। এই রায় শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির।
মজলুমের দোয়া আজ কবুল হলো: শামারুহ মির্জা
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড নিয়ে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মেয়ে শামারুহ মির্জা। সোমবার নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘রায় দিল। আব্বুকে ফোন করলাম! কাঁদলাম! সেই ২০১৩ থেকে আমি অপেক্ষা করছিলাম! আমাদের জীবনের যে ভয়াবহ ক্ষতি করেছিল হাসিনা, কতবার ভেবেছি, কবে সুযোগ আসবে।’ফখরুলকন্যা আরও লিখেছেন, ‘আমি মামলা করব আমাদের মানসিক, শারীরিক এবং আর্থিক ক্ষতি করার জন্য। এই ১২ বছরে কত লাখ লাখ পরিবার শেষ করেছে হাসিনা। কত মানুষ খুন করেছে, গুম করেছে!’
বিভিন্ন স্থানে মিষ্টি বিতরণ
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলার রায়ের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে। চট্টগ্রামে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্র-জনতা। গতকাল বিকেলে নগরের দুই নম্বর গেটে বিপ্লব উদ্যানে মিষ্টি খাওয়ান তারা। এ ছাড়া বিপ্লব উদ্যানে শোকরানা নামাজ আদায় ও আনন্দ মিছিল করেছেন এনসিপি নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন শেখ হাসিনাকে ফেরত চায় ঢাকা, দিল্লির সাদামাটা প্রতিক্রিয়া
ঢাকাভয়েস/এই


No comments