Adsterra

লোড হচ্ছে...

বাড়িতে ভাঙা হাড়ের এক্স-রে, লতাপাতায় ব্যান্ডেজ



বাড়িতে ভাঙা হাড়ের এক্স-রে, লতাপাতায় ব্যান্ডেজ,ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক এলাকার কৃষক হাফিজুর রহমান তাঁর চার বছরের ছেলে হাসিবুরকে নিয়ে যান সোনাতলার চরপাড়ার এক হাতুড়ে কবিরাজ গোলাম রব্বানী টুলুর কাছে। গাছ থেকে পড়ে শিশুটির পা ভেঙে গেলে কবিরাজ এক্স-রে করিয়ে ভেষজ মিশ্রণ দিয়ে ব্যান্ডেজ করে দেন এবং এক সপ্তাহ পর আসতে বলেন। চিকিৎসা আর এক্স-রের জন্য নেন তিন হাজার টাকা।শুধু শিশু হাসিবুরই নয়, শাজাহানপুরের রোজিনা খাতুন সেখানে হাত ভাঙার চিকিৎসা করিয়ে আরও বিপদে পড়েছেন। তাঁর হাত আরও ফুলে যায়। হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা জানান, হাড় ঠিকমতো জোড়া লাগেনি, বরং ইনফেকশন হয়েছে। এখন হাত কেটে ফেলতে হতে পারে। রোজিনা ক্ষুব্ধ হয়ে ২২ হাজার টাকা ফেরত চাইলে কবিরাজের লোকজন তাঁকে ভয়ভীতি দেখায়। অপমান করা হয়। শেষ পর্যন্ত অপমান সইতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।এমন ঘটনার পরও দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন। নাটোরের সিংড়া থেকে এসেছেন আমেনা খাতুন নামের এক বৃদ্ধ। তিনি বলেন, ‘লোকজন বলেছে হাসপাতালে গেলে পা কেটে ফেলতে হবে, তাই কবিরাজের কাছে এসেছি।’তাঁকে নিয়ে আসা আজিজার রহমান নামের ব্যক্তি আরও কয়েকজন রোগী সেরে ওঠার গল্প শোনান। কথাবার্তায় বোঝা যায়, তিনি কবিরাজের দালাল হিসেবে কাজ করেন এবং কমিশন পান।প্রতিদিন সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এখানে প্রায় ৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন গোলাম রব্বানী টুলুর কাছে। তাঁর বাবা গোলাম হোসেন বহু বছর এই চিকিৎসা করতেন। তাঁর মৃত্যুর পর অল্প শিক্ষিত ও এক সময়কার বখাটে টুলু দায়িত্ব নেন। সাত-পাঁচ জানা নেই, মাত্র পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছেন। বাবার কাজে সাহায্য করতে করতে চিকিৎসার কৌশলগুলো শিখেছেন বলে দাবি করেন।নিজ বাড়িতেই চিকিৎসালয় চালান। ছোট্ট একটি ঘরে এক্স-রে মেশিন বসানো হয়েছে। হাড়ভাঙা রোগী এলেই প্রথমে এক্স-রে করান। রিপোর্ট নিজেই দেখেন। যদিও এ বিষয়ে তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা নেই। এরপর গাছের লতাপাতা পিষে ভাঙা অংশে ব্যান্ডেজ করে দেন। সঙ্গে রয়েছে এসএসসি পাস শাওন; যিনি তাঁর অনুপস্থিতিতে রোগী দেখেন। সমস্যা হলে কিছু স্থানীয় যুবক তা ‘সমাধান’ করে দেয়; তাদের মাসোহারা দেন টুলু।স্থানীয় প্রবীণদের অভিযোগ, টুলু বা তার বাবার কারোই ডাক্তারি বিষয়ে কোনো ডিগ্রি নেই। বহু মানুষ দালালের প্ররোচনায় এখানে আসেন। ভুল চিকিৎসায় কারও কারও অঙ্গহানি পর্যন্ত হয়েছে। তারা নিজেরা কখনও সেখানে চিকিৎসা নেননি এবং এ চিকিৎসাকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। তাদের আক্ষেপ, এসব কবিরাজ কীভাবে দিনের পর দিন অনুমোদনহীন চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন, তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা উচিত। অভিযোগের বিষয়ে টুলু বলেন, মেডিকেল ডিগ্রি না থাকলেও বাবার কাছ থেকে শিখে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তাঁর দাবি, ‘এখানে শতভাগ ভালো চিকিৎসা হয়; কেউ কেউ শত্রুতা করে তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে।’ তিনি আরও জানান, অনুমোদনের জন্য আবেদন করেছেন।সোনাতলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্বীকৃতি প্রামাণিক বলেন, অনুমোদনহীন এই চিকিৎসালয় একবার বন্ধ করা হয়েছিল। আবার চালু রাখা হয়ে থাকলে সরেজমিন পরিদর্শন করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।বগুড়ার সিভিল সার্জন খুরশীদ আলম জানান, এ প্রতিষ্ঠানের কোনো অনুমোদন নেই। এক্স-রে বা হাড় জোড়া লাগানোর মতো চিকিৎসা তারা দিতে পারে না। খুব শিগগিরই অভিযান চালানো হবে।

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.