ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি: পরিবেশ উপদেষ্টা
৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পের পর যেহেতু কম মাত্রার আফটার শক হয়েছে, তাই আপাততের জন্য বিপদ পার হয়েছে বলে মনে করেন সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। তিনি মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রস্তুতি নিতে পরামর্শ দেন।তিনি বলেন, ভূমিকম্পের প্রস্তুতির পাশাপাশি মানুষকে আরও সচেতন করতে হবে। তিনি প্রস্তাব করেন যে রাজউকের পাশাপাশি থার্ড পার্টির মাধ্যমে রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট শুরু করা যেতে পারে। বিভিন্ন এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় জরিপ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করারও আহ্বান জানান তিনি। অপেক্ষা করার সুযোগ নেই; মানুষকে আশ্বস্ত করতে হবে যে সরকার ভূমিকম্প মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, পুরনো ঢাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল কারখানা, ঘনবসতি, বিল্ডিং কোড না মানাসহ নানা কারণে এলাকাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এসব কেমিক্যাল কারখানা স্থায়ীভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। জরুরি ভিত্তিতে রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট কাজ বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে শুরু করতে হবে। এখানে ব্যবসায়ীরা হ্যাঁ বলুক, কি না বলুক, তার থেকে অনেক বেশি জরুরি হচ্ছে মানুষ। ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে ঝুঁকি অ্যাসেসমেন্ট শেষ করতে হবে। ঝুঁকি সম্পর্কে জানতে এলাকাভিত্তিক বিভিন্ন ফার্মকে সার্ভের কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। রাজউকের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে সার্ভের কাজ দ্রুত করতে হবে বলেও জানান তিনি।
সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ধীরগতির সমালোচনা করে পরিবেশ উপদেষ্টা বলেন, অনেক সিদ্ধান্তই বাস্তবায়নের অভাবে ঝুলে থাকে; এগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। রাজউককে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দিয়ে প্রক্রিয়াটি সহজ করে তোলাই এখন জরুরি। তিনি আরও বলেন, আতঙ্ক নয়, এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ; কীভাবে কাজ শুরু করা যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।এসময় শিল্প, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেন, থার্ডপার্টির মাধ্যমে অ্যাসেসমেন্টের কাজ শেষ করতে হবে। রাজউকের ক্ষমতা বাড়াতে দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝুঁকি মোকাবিলায় ট্রাস্ট গঠনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।এসময় রাজধানীতে প্রায় ৩০০টি ছোট-বড় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানান রাজউক চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সমন্বিতভাবে কাজ না করা গেলে ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি সামলানো সম্ভব না। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। যথাযথ নিয়ম মেনেই ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়া হয় জানিয়ে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, অর্থের বিনিময়ে রাজউকে কোনো কাজ হয় না।রাজউক কাউকে প্ল্যান করে দেয় না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বাড়িওয়ালারাই ইঞ্জিনিয়ার বা আর্কিটেক্ট দিয়ে বাড়ির প্ল্যান করে রাজউকে জমা দেয় এই শর্তে যে, রাজউকের নিয়ম মোতাবেক করবো। পরবর্তীতে তারা সেটা না মানলে জরিমানা কিংবা শাস্তি দিতে হলে সেই বাড়িওয়ালাদেরই দেয়া উচিত। এই দায়ভার রাজউকের না।তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন, রাজউক ও ফায়ার সার্ভিস আলাদাভাবে কাজ করায় বিশৃঙ্খল অবস্থায় আছে সব।
আরও পড়ুন প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসছে বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ
ঢাকাভয়েস/এই


No comments