Adsterra

লোড হচ্ছে...

রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায়



রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উৎকণ্ঠায়, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

রাজনৈতিক অস্থিরতায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বাড়ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কায় আজ রোববার ও আগামীকাল সোমবার সন্তানদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে দ্বিধায় পড়েছেন হাজার হাজার অভিভাবক।সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রাজধানীর বেশির ভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না দিলেও ভেতরে ভেতরে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে আসতে নিরুৎসাহিত করছে। ইতোমধ্যে হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আজ রোববার তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস ছুটি ঘোষণা করেছে। এদিকে কয়েকটি বিদ্যালয় সীমিত পরিসরে ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেউ কেউ কৌশলে শুধু প্রাথমিক বা তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ‘অস্থায়ী ছুটি’ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি একাধিক স্কুল পরীক্ষার সময়সূচি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছে। কিছু স্কুলে আজ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর কথা রয়েছে।কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। কেউ কেউ সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার আগমুহূর্তে ঠিক করবে ক্লাসে যাবে কিনা। কেউ কেউ বার্ষিক পরীক্ষা দিতে স্কুলমুখী হতে বাধ্য হবে। অভিভাবকরাও আছেন আতঙ্কে। তবে স্কুলগুলো সরকারি নির্দেশনা ছাড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না। যদিও স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ গ্রুপে শিক্ষার্থীদের ‘নিরাপত্তা ঝুঁকি’ নিয়ে  কৌশলে বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা জানান, অনেক স্কুলে আজ থেকে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। কোনো কোনো স্কুলে কয়েক দিনের মধ্যে শুরু হবে– কেন্দ্রীয় নির্দেশনা ছাড়া ছুটি ঘোষণা কঠিন। সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তায় পড়েছে।তবে রাজনৈতিক অস্থিরতার মৃদু ছায়া শিক্ষাঙ্গনে স্পষ্ট হয়ে উঠলেও কর্তৃপক্ষ এখনও স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে।

১৩ নভেম্বরের ঘটনার ছায়া

গত ১৩ নভেম্বর ঘিরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পর পর দুদিন যানবাহনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ ও সংঘর্ষের ঘটনা এখনও আতঙ্ক তৈরি করে রেখেছে। আবার ‘শাটডাউন’ ঘোষণায় সেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

অভিভাবকরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সন্তানদের স্কুলে আনা-নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিশেষ করে ঢাকার মাঝামাঝি বা প্রধান সড়কসংলগ্ন এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ে তাদের ভয় বেশি।

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুগদা শাখার অভিভাবক রফিকুল ইসলাম রনি সমকালকে বলেন, সন্তানের পড়াশোনার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ তার নিরাপত্তা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি অনুরোধ, সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষা নয়, আগে নিজ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করুন। ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক ফয়জুন্নেছা কাকলি প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক গ্রুপে লিখেছেন, ‘সরকারি নির্দেশনার অপেক্ষায় না থেকে শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে ১৬ ও ১৭ নভেম্বর স্কুল বন্ধ রাখা উচিত। বছরের শেষ সময় শিশুদের পড়াশোনা যেমন জরুরি, তেমনি নিরাপত্তাও সবার আগে।’

তাঁর মতো আরও অনেক অভিভাবকই একই দাবি জানিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক ফোরাম ও গ্রুপে পোস্ট দিয়েছেন।

ধানমন্ডি গবর্নমেন্ট বয়েজ হাইস্কুলের অভিভাবক তাবাসসুম হাসান মৌ সমকালকে বলেন, সরকারি স্কুলগুলো সরকারের সিদ্ধান্তের বাইরে এক চুল নড়ে না। তারা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেও সরকার নির্দেশ না দিলে স্কুল বন্ধ করে না। এটা সন্তানের মা হিসেবে আমাদের জন্য উদ্বেগের।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপের কারণে নোটিশ দিয়ে ছুটি ঘোষণা করা কঠিন। ফলে অভ্যন্তরীণ ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে কৌশলে কিছু সতর্কবার্তা পাঠানো হচ্ছে।

রাজধানীর হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সূত্র জানায়, বিশেষ কারণে আজ রোববার প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে অন্য শ্রেণির বিষয়ে ‘পরিস্থিতির ওপর নির্ভর’ এমন অবস্থান বজায় রেখেছে তারা।

উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক বন্ধের ঘোষণা দেয়নি– যদিও ১৩ নভেম্বর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ছিল। এক অভিভাবক জানান, স্কুলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার দায় স্কুল নেবে না; অভিভাবক নিজ বিবেচনায় সন্তান পাঠাবেন।’

মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমরা ক্লাস বন্ধ করার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত দিতে পারছি না। ১৩ নভেম্বরও বন্ধ করিনি। ক্যাচমেন্ট এলাকার অনেক শিক্ষার্থী খোলা থাকলেই স্কুলে উপস্থিত হয়ে যায়। তাই শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলে ক্লাস নিতে হয়– যদিও অভ্যন্তরীণভাবে ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে জানানো হচ্ছে।

সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক শিক্ষক জানান, ‘শিক্ষার্থীরা এলে ক্লাস হবে, না হলে হবে না– এটাই এখন বাস্তবতা।’ তাই স্কুল খোলা বা বন্ধের সিদ্ধান্ত দেওয়া, না দেওয়াই আসলে কিছু যায় আসে না।

বিএএফ শাহীন স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক অভিভাবক জানান, আজ রোববার থেকে স্কুল শাখার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। যদিও পরীক্ষা শুরু হবে কিনা, এখনও তিনি নিশ্চিত নন।

বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের এক অভিভাবক জানান, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে শুরু হবে। পরীক্ষা বন্ধের কোনো নোটিশ গতকাল রাত পর্যন্ত তিনি পাননি।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের নীরবতা

সমকালের পক্ষ থেকে শনিবার রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও হলি ক্রস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কেউই আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানপ্রধান জানান, অভিভাবক-শিক্ষার্থীরা উদ্বিগ্ন– এ কথা ঠিক। তবে প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যে কোনোভাবেই রাজনৈতিক ব্যাখ্যার ঝুঁকিতে পড়ে যায়। তাই সিদ্ধান্তহীনতার মাঝেই চলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

মাউশির অবস্থান ‘পরিস্থিতি এতটা গুরুতর নয়’

সারাদেশের সরকারি ও বেসরকারি স্কুলগুলোর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল সমকালকে বলেন, সামনে বার্ষিক পরীক্ষা। এখন ক্লাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এমন গুরুতর নয় যে, স্কুল বন্ধ রাখতে হবে। অতীতে অনিশ্চয়তার মধ্যেও ক্লাস হয়েছে– এখনও কোনো ঝুঁকি দেখছি না।

আরও পড়ুন  ফুসফুসের সংক্রমণ সুরক্ষায় যা করণীয়

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.