Adsterra

লোড হচ্ছে...

গয়না চুরি করে গ্রেফতার, মুক্তি পেয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস

গয়না চুরি করে গ্রেফতার, মুক্তি পেয়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে হারিয়ে ইতিহাস, বিশ্বকাপ  ফুটবল, ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top

২০০২ সালের ২৮ মে বিশ্বজুড়ে শিরোনাম হয়েছিলেন খালিলু ফাদিগা। দক্ষিণ কোরিয়ায় গয়না চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় সেনেগাল জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী এই ফুটবলারকে। সাধারণ কোনো অপরাধের খবর হয়তো এত আলোচনায় আসত না, কিন্তু ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পায় কারণ ফাদিগা তখন সেনেগাল জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম প্রধান খেলোয়াড়। আর সেই দিনটাতেই তাদের ২০০২ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল।


তখনকার নিয়ম অনুযায়ী, আগের আসরের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দল পরের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ খেলত (২০০৬ এর আসর থেকে আয়োজক দল উদ্বোধনী ম্যাচ খেলে)। ১৯৯৮ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ জেতা ফ্রান্স ছিল সেই সময়ের শিরোপাধারী দল। অন্যদিকে সেনেগাল সেবারই প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছিল। ফলে সেনেগালের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি। কিন্তু অভিষেকের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে দলের ১০ নম্বর জার্সিধারী তারকার গ্রেফতার পুরো প্রস্তুতিকে নাড়িয়ে দেয়।

ঘটনার শুরু হয় তারও কয়েকদিন আগে। ফাদিগা দলের সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার ডেগু শহরে অনুশীলন ক্যাম্পে ছিলেন। সেখানকার কাছাকাছি একটি এলাকায় ঘুরতে গিয়ে তিনি একটি দোকান থেকে গয়না চুরি করেন। তখন কেউ বিষয়টি টের না পেলেও পুরো ঘটনাটি সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ২৫ মে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

সেই সময় ফরাসি ক্লাব অজেরের হয়ে খেলা এই বাঁ-পায়ের উইঙ্গার একটি গয়নার দোকান থেকে প্রায় ২৮০ ইউরো (তৎকালীন ৩ লাখ দক্ষিণ কোরিয়ান ওন) মূল্যের একটি নেকলেস চুরি করেছিলেন। তবে তাকে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

দ্রুত মুক্তির পেছনে বড় ভূমিকা ছিল সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তাদের। ফাদিগা নিজেও অপরাধ স্বীকার করেছিলেন। যদিও তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছিল, তবুও তিনি নেকলেসটি ফেরত দেন এবং দাবি করেন, বন্ধুদের সঙ্গে বাজির অংশ হিসেবেই তিনি এটি করেছিলেন।

ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত আর বড় কোনো কেলেঙ্কারিতে রূপ নেয়নি এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক অদ্ভুত কাহিনি হিসেবেই থেকে যায়। এই বিতর্ক সত্ত্বেও ফরাসি কোচ ব্রুনো মেতসু তাকে প্রথম একাদশে রাখেন। ফাদিগা শেষ পর্যন্ত সিউলে ফ্রান্সের বিপক্ষে সেনেগালের সেই ১-০ গোলের ঐতিহাসিক জয়ের গৌরবের ভাগীদার হন।

এরপর সেনেগাল গ্রুপের পরের ম্যাচ দুটিতে ডেনমার্কের সঙ্গে ১-১ এবং আরেক সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে। ফাদিগা দুই ম্যাচেই পুরো ৯০ মিনিট খেলেছিলেন। গ্রুপে ডেনমার্কের পর দ্বিতীয় হয়ে তারা নকআউট পর্বে ওঠে।

তবে, রাউন্ড অব ১৬-এ সুইডেনের বিপক্ষে ২-১ জয়ের ম্যাচে তিনি খেলেননি। আবার কোয়ার্টার ফাইনালে তুরস্কের বিপক্ষে প্রথম একাদশে ফেরেন ফাদিগা। অতিরিক্ত সময়ে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিলেও সেটিই ছিল বিশ্বকাপে কোনো আফ্রিকান দলের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স।

এই বিশ্বকাপই ফাদিগার ক্যারিয়ারের বড় মোড় ঘুরিয়ে দেয়। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইর (পিএসজি) যুব একাডেমি থেকে উঠে আসা এই ফুটবলার এক বছর পর অজের ছেড়ে যোগ দেন ইন্টার মিলানে, যদিও সেখানে কোনো অফিসিয়াল ম্যাচ খেলতে পারেননি। পরে তিনি ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগে খেলেন, এরপর ইংল্যান্ডের নিম্ন সারির ক্লাবগুলোতে সময় কাটান। কাতারেও খেলেছেন কিছুদিন। সবশেষে বেলজিয়ান ফুটবলে ফিরে যান, যেখানে ক্লাব ব্রুজের হয়ে তিনি একসময় দারুণ সাফল্য পেয়েছিলেন। ২০১২ সালে ফুটবলকে বিদায় জানান এই সেনেগালিজ।

No comments

Powered by Blogger.