ঈদযাত্রায় অসুস্থ হয়ে গেলে কী করবেন ?
ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছে লাখো মানুষ। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেশের বিভিন্ন জেলায় ছুটে যাচ্ছে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থীরা। ফলে মহাসড়ক, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে বাড়ছে যাত্রীর চাপ।
প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় কেউ বেছে নিচ্ছেন ট্রেন, কেউ বাস, আবার কেউ ব্যক্তিগত গাড়িতে রওনা হচ্ছেন গন্তব্যে। দীর্ঘ যাত্রায় অনেকে আবার হয়ে পড়েন অসুস্থ। পেটের সমস্যা, সর্দি–কাশি, বমি বা মাথা ঘোরাসহ নানা ধরণের সমস্যা দেখা দেয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভ্রমণের সময় পরিবেশের পরিবর্তন, অনিয়মিত ঘুম, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে সহজেই বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে কিছু বিষয় সচেতনভাবে মেনে চললে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সম্প্রতি এনডিটিভির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ওঠে আসে এসব তথ্য।
চলুন জেনে নেয়া যাক— ভ্রমণের সময় যেসব স্বাস্থ্যসমস্যা বেশি দেখা যায়
১. ট্রাভেলার্স ডায়রিয়া
ভ্রমণের সময় খাবার বা পানি গ্রহণের ফলে অনেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন। বিশেষ করে নতুন স্থানের অস্বাস্থ্যকর খাবার এই সমস্যার অন্যতম প্রধান কারণ বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
২. শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ
দীর্ঘ ভ্রমণ, ভিড়ভাট্টা কিংবা বিমানের শুষ্ক পরিবেশের কারণে অনেক সময় সর্দি-কাশি বা গলা ব্যথার সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
৩. মোশন সিকনেস
দীর্ঘ বাস বা নৌযাত্রায় অনেকের মধ্যে বমিভাব, মাথা ঘোরা বা অতিরিক্ত ক্লান্তির লক্ষণ দেখা যায়। অনিয়মিত খাবার গ্রহণ বা পানির অভাব এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
৪. জেট ল্যাগ
একাধিক টাইম জোন অতিক্রম করে ভ্রমণ করলে শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত হয়। এর ফলে ঘুমের সমস্যা, বিরক্তি এবং হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৫. পানিশূন্যতা
দীর্ঘ যাত্রায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না, ফলে মাথাব্যথা, দুর্বলতা ও ক্লান্তি বৃদ্ধি পেতে পারে।
ভ্রমণের সময় সুস্থ থাকতে করণীয় কাজ হলো—
১. হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন
সাবান দিয়ে নিয়মিত হাত ধোয়া এবং প্রয়োজনে স্যানিটাইজার ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি।
২. নিরাপদ খাবার ও পানি বেছে নিন
যথাসম্ভব ভালোভাবে রান্না করা খাবার খাওয়া এবং বোতলজাত বা বিশুদ্ধ পানি পান করাই নিরাপদ।
৩. ঘুমের সময় ঠিক রাখার চেষ্টা করুন
যাত্রার আগে ও পর ঘুমানোর চেষ্টা করুন। এছাড়া গন্তব্যস্থলের সময় অনুযায়ী ধীরে ধীরে ঘুমের অভ্যাস মানিয়ে নিলে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসতে পারে।
ভ্রমণ আনন্দ উপভোগের জন্য । তাই সামান্য সচেতনতা, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তুললেই যাত্রা হতে পারে আরও স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ। সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধ, পর্যাপ্ত পানি এবং স্বাস্থ্যকর খাবার রাখাও ভ্রমণকে ঝামেলামুক্ত রাখতে সহায়তা করে।
ঈদের ভ্রমণ হোক আনন্দময়, নিরাপদ এবং সুস্থতার সঙ্গী।


No comments