নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে ভারতের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’
ভারতে ভাইরাল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র (সিজেপি) ওয়েবসাইট ব্লক করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন ঠিকানা তৈরির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক।
ব্যঙ্গাত্মক এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ থাকেন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনে। তিনি বলেন, ভারতীয় কর্মকর্তারা আমাদের আইকনিক ওয়েবসাইট ডাউন করে দিয়েছেন। অভিজিৎ প্রশ্ন তোলেন, তারা কেন তেলাপোকাকে এত ভয় পাচ্ছেন? এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অভিজিৎ জানান, তারা এরই মধ্যে নতুন একটি ‘ঠিকানা’ তৈরির কাজ শুরু করেছেন। তিনি আরও লেখেন, তেলাপোকা কখনও মরে না। ভারত থেকে সিজেপির অফিশিয়াল এক্স পাতাটিও আর দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে এটিতে প্রবেশ করতে গেলে একটি বার্তা দেখা যায়, যেখানে বলা হয়েছে– ‘আইনি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে’ অ্যাকাউন্টটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর বেকার তরুণদের ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে করা একটি মন্তব্যকে ঘিরে ব্যঙ্গাত্মক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে ওঠে সিজেপি। এটি কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দল নয়। ১৬ মে ককরোচ জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে হু হু করে এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। কয়েক দিনের মধ্যে ইনস্টাগ্রামে এর অনুসারীর সংখ্যা দুই কোটি ২০ লাখ ছাড়িয়ে যায়। দীপক অভিযোগ করেন, তার ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ও দলের অ্যাকাউন্ট দুটিই হ্যাক করা হয়েছে। ককরোচ জনতা পার্টির ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি। সিজেপির তরুণ স্বেচ্ছাসেবকরা গত কয়েক দিনে তেলাপোকার আদলে পোশাক পরে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন।
দীপক এর আগে বিবিসিকে বলেছিলেন, দলটির এই বিপুল জনপ্রিয়তা ভারতের তরুণদের মধ্যে উচ্চ বেকারত্ব নিয়ে তৈরি হওয়া ব্যাপক অসন্তোষ ও মূলধারার রাজনীতিতে নিজেদের উপেক্ষিত মনে করার অনুভূতিরই বহিঃপ্রকাশ। ৩০ বছর বয়সী অভিজিৎ দীপক পুনে থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক করেছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পাবলিক রিলেশনস বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন।
বিশ্বের সবচেয়ে তরুণ জনসংখ্যার দেশগুলোর একটি ভারত। দেশটির ১৪০ কোটি মানুষের প্রায় অর্ধেকের বয়সই ৩০ বছরের নিচে। কিন্তু ভারতে আনুষ্ঠানিক রাজনীতিতে তরুণদের অংশগ্রহণের সুযোগ এখনও বেশ সীমিত। খবর বিবিসির।


No comments