মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবে দেশের অর্থনীতিতে ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। চলমান পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি বলেছে, ইতোমধ্যে এ সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। গতকাল বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছে ডিসিসিআই। এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য– যা বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস, সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।ঢাকা চেম্বার মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ মেয়াদে উচ্চ অবস্থানে থাকলে তা বাংলাদেশের বহির্খাতের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ মার্কিন ডলার বাড়লে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় সাত থেকে আট কোটি ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বাড়বে এবং বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া জ্বালানি ব্যয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিশেষত হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌ-পরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে। উল্লেখ্য, বিশ্বব্যাপী প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই রুটে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বীমা প্রিমিয়াম এবং পণ্য সরবরাহের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।ডিসিসিআই বলেছে, বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত এই পরিস্থিতিতে উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়, সাপ্লাই চেইনে বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকির সম্মুখীন। এ ছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে গত সাত মাসে রপ্তানি কমতে কমতে প্রায় তলানিতে ঠেকেছে। সংঘাতের মাত্রা আরও বাড়তে আমদানি ও রপ্তানি উভয় ক্ষেত্রেই ব্যয় আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে পারে। দেশের অর্থনীতিকে সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ঢাকা চেম্বার অগ্রিম ও কার্যকর নীতিগত পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, কৌশলগত জ্বালানি মজুত আরও জোরদার, সাপ্লাই চেইনের কার্যকারিতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করা জরুরি।
আরও পড়ুন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী
ঢাকাভয়েস/দি

No comments