বার্ড নেস্ট অ্যানথুরিয়াম
এতদিন জানতাম, অ্যানথুরিয়ামের পাতাগুলো খুব বেশি বড় হয় না, গাছও ছোট। কিন্তু এত বড় পাতার অ্যানথুরিয়াম দেখে অবাক হলাম। এক-একটা পাতা এক থেকে দেড় হাত লম্বা! তেমনি চওড়াও। বড় জাতের তামাক পাতার চেয়ে দুই-তিন গুণ বড়; পাতার চেহারাটাও তামাক পাতার মতো। গাছের গোড়া থেকে পাতাগুলো চারদিকে আবর্তাকারে ছড়িয়ে পড়ে। মাঝখান থেকে লম্বা কাঠির মতো চকলেট রঙের পুষ্পমঞ্জরি খাড়া হয়ে ওঠে। সবুজ পাতার জমিতে সেটিও বিস্ময়কর! গাছের এই গড়ন অনেকটা পাখির বাসার মতো। এ কারণেই হয়তো এ গাছের নাম রাখা হয়েছে বার্ড নেস্ট অ্যানথুরিয়াম।
ইন্টারনেট ও বইপত্রে এ গাছের উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম পেলাম Anthurium hookeri, গোত্র অ্যারাসি, অর্থাৎ এটি কচুগোত্রীয় বিরুৎ শ্রেণির বহুবর্ষজীবী চিরসবুজ একটি গাছ। এ গাছের কাণ্ডের পর্বমধ্য খাটো, ঘন গুচ্ছমূলের মতো শিকড়, পাতার কিনারা মসৃণ, পত্রফলক বেগুনি বা কালচে আভাযুক্ত সবুজ, চর্মবৎ ও মসৃণ, চকচকে, শিরাবিন্যাস স্পষ্ট ও কালচে-সবুজ, পত্রফলক ও কিনারা কিছুটা ঢেউখেলানো, অগ্রভাগ সুচালো।
গাছের মাঝখান বা কেন্দ্র থেকে একটি সরু কাঠির মতো ডাঁটার মাথায় চিকন বেলনাকৃতির পুষ্পমঞ্জরি জন্মে, যাকে বলে স্প্যাডিক্স। একটি বেগুনি বা বেগুনি-সবুজ রঙের কলার মোচার খোসার মতো আবরণী প্রথমে পুষ্পমঞ্জরিকে আবৃত করে রাখে, যাকে বলে স্পেদ। পরে এই আবরণী খুলে পুষ্পমঞ্জরি বেরিয়ে আসে এবং তাতে অসংখ্য ক্ষুদ্র ফুল ফোটে ও ফল ধরে। সারা বছরই ফুল ফোটে। ফলগুলোর রং জাতভেদে সাদা বা লাল হয়, ফল নরম ও রসালো। পুষ্পমঞ্জরিতে পাকা ফলগুলো যখন ঘন হয়ে গেঁথে থাকে, তখন সবুজ পাতার জমিনে তা বেশ সুন্দর দেখায়।
এই গাছের স্বভাব পরাশ্রয়ী হলেও একে টবে জন্মানো যায়। বাগানে ও উদ্যানে বড় বৃক্ষের অনুচ্চ শাখায় লালন করে বাগানে বৈচিত্র্য আনা যায়। এ গাছ সরাসরি রোদ পছন্দ করে না। তাই অন্দর বাগানে বা ঘরে রাখা ভালো।
প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার ব্যাসের টবে এই গাছ লাগানোর জন্য উত্তম। টবে লাগালে মাটির সঙ্গে এমন কিছু মেশাতে হবে, যাতে মাটি ভুসভুসা ও পানিনিকাশি থাকে। কোকো ডাস্ট বা নারকেল ছিবড়ার গুঁড়া এ ক্ষেত্রে এ গাছের বৃদ্ধি ও বিকাশের জন্য ভালো ফল দেয়। মাটি ছাড়াও এ গাছ জন্মে। অন্য গাছের ওপর তুলে দিলে সে গাছের বাকলে এ গাছের শিকড় আঁকড়ে বেঁচে থাকে; শিকড় ঝুলিয়ে বাতাস থেকে আহার ও আর্দ্রতা গ্রহণ করে।
এ গাছ লাগানো হোক না কেন, গাছে নিয়মিত পানি স্প্রে করলে চেহারা ভালো হয়। আবার গাছের গোড়ায় পানি জমলে সে গাছের ক্ষতি হয়। এ জন্য যখনই দেখা যাবে টবের ওপরের মাটি শুকিয়েছে, তখনই পানি দিতে হবে, সব সময় পানি দেওয়ার দরকার নেই। শীতকালে পানি কম দিতে হয়। বৃদ্ধি মৌসুমে, অর্থাৎ বসন্ত থেকে গ্রীষ্মকালে পরিমাণমতো সার ও পানি দিলে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়, শরৎ ও শীতে সার দেওয়ার দরকার হয় না।
দেশে কারও কারও ঘরে, ছাদে ও ঝুল বারান্দায় এ গাছ রয়েছে। এখন এর বেশ কিছু হাইব্রিড জাত পাওয়া যাচ্ছে। সেসব জাতের মধ্যে কোনো কোনো জাতের পাতায় সাদাটে ছোপ ছোপ দাগ দেখা যায়, সেগুলো ভেরিগেটেড জাত। আবার কোনো কোনো জাতের পাতা কিছুটা ছোট ও সবুজ, কোনো জাতের পাতা আবার বেশ লম্বা। এ গাছের আদি নিবাস ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা। এ দেশের উদ্ভিদ তালিকায় এর কোনো নাম নেই।
আরও পড়ুন দেশে চক্ষু সেবায় বড় ঘাটতির, ঝুঁকি বাড়ছে অন্ধত্বের
ঢাকাভয়েস/এই

No comments