চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছেন? যেভাবে বুঝবেন এখনই পদত্যাগের সঠিক সময়
পড়ালেখা শেষ হওয়া মাত্রই অধিকাংশ মানুষ চাকরি খোঁজা শুরু করেন। কেউ কেউ পড়ালেখা চলমান অবস্থায় পার্ট-টাইম চাকরি করেন। তবে পড়ালেখা শেষ হতেই পুরোদমে ক্যারিয়ার নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন সবাই। পড়ালেখার প্রয়োজন ছাড়াই দক্ষতাভিত্তিক কাজে যারা আগে থেকেই নিযুক্ত, তাদের চাকরি খোঁজার চিন্তা করতে হয় না খুব একটা।
তবে চাকরিতে যোগদানের পর শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়। এ সময় নতুন পরিবেশে নিজের কাজ, নতুন সব মানুষদের সঙ্গে চলাফেরা, নিজের ক্যারিয়ারের লক্ষ্যে পৌঁছানোর লক্ষ্যসহ নানা চ্যালেঞ্জ শুরু হয়। একটি প্রতিষ্ঠানে ক’বছর কাজ করার পর কেউ কেউ আবার অন্যত্র চলে যায়। এ ক্ষেত্রে অধিক বেতন ও বোনাস, কর্মীর সুযোগ-সুবিধা, বিমা-ভাতা, অবসরকালীন ভাতা এবং নিজেকে কোথায় দেখতে চান―সেসব বিবেচনা করে চাকরি ছাড়া হয়।
কখনো কখনো বেতন ভালো এবং সুযোগ-সুবিধা বেশি হওয়ায় চাকরি ছাড়া হয় না। বিপরীতে কেউ কেউ দীর্ঘদিন একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করার পরও আশানুরূপ বেতন পান না, প্রোমোশন হয় না এবং তার নেতৃত্ব গুরুত্ব না পাওয়ায় চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু ঠিক কখন চাকরি ছাড়ার উপযুক্ত সময়, এ ব্যাপারে খুব কম সংখ্যক মানুষই জানেন। ফোর্বসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার তাহলে জেনে নেয়া যাক, ঠিক কখন চাকরি দেয়া উচিত।
সঠিক কারণ খুঁজে বের করে পদত্যাগ করা:
প্রথমেই চাকরি ছাড়ার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। চাকরি খুঁজে না পাওয়ার আগ পর্যন্ত কখনো বর্তমান কর্মস্থল ছেড়ে দেয়া ঠিক নয়। তবে চাকরি ছাড়ার আগেও কিছু যুক্তিসংগত ও অর্থপূর্ণ কারণ খুঁজে বের করতে হবে। তারপরই চাকরি ছাড়ার চিন্তা করতে পারেন।
লক্ষ্য ও অর্জন:
একজন কর্মী হিসেবে যদি মনে করেন, আপনাকে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না, তাহলে আপনি চাকরি ছেড়ে দিতে পারে। সুখ ও পরিপূর্ণতার সঙ্গে লক্ষ্য বাস্তবায়নের অনুভূতি সম্পর্কিত। আপনাকে বিশ্বের সব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজন নেই। তবে আপনি যদি এমনটা মনে করেন যে, কর্মস্থলে কিছু পরিবর্তন এনেছেন এবং আপনার সেই ভালো কাজের প্রশংসা করা হচ্ছে না বা মূল্যায়ন করা হচ্ছে না, তাহলে চাকরি ছেড়ে দেয়ার জন্য এটি ভালো সময় হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ, শেখা ও বৃদ্ধি:
চ্যালেঞ্জ, কাজ শেখা এবং নিজেকে মেলে ধরার মাধ্যমে কোনও উন্নতির সুযোগ না থাকলে সেখানে অবস্থান করা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। সবসময় সবই অবিশ্বাস্যভাবে ফলাফল বয়ে আনবে না। তবে কিছু কাজ যদি আপনাকের কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় বা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ থাকে, তাহলে সন্তুষ্ট থাকবেন। আর যদি কর্মস্থলে নিজেকে মেল ধরার সুযোগ না থাকে, নতুন কিছু শেখার সুযোগ না থাকে, তাহলে সেখান থেকে সরে যাওয়াই উত্তম।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা:
প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ যদি উল্লেখযোগ্যভাবে চোখে না পড়ে, তাহলে চাকরিটি ছেড়ে দেয়ার কথা ভাবতে পারেন। সব কর্মস্থল মনোরম হবে না, তবে আপনি যদি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিতে বিশ্বাস করেন এবং ভালো কিছু হবে বলে মনে করেন, তাহলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য নিজের সময়, মেধা ও শক্তি বিনিয়োগ করা যুক্তিসঙ্গত। বিপরীতে যদি এসব কোনও সম্ভাবনা না থাকে, তাহলে চাকরি ছেড়ে দিতে পারেন।
যোগাযোগ:
চাকরি ছাড়ার ক্ষেত্রে আরও একটি কারণ হচ্ছে, সহকর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন বা দূরত্ব বোধ করা। প্রচলিত রয়েছে―আত্মীয়তার অনুভূতি সুখের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি। সহকর্মীদের সঙ্গে যদি একাত্মতা না থাকে, তাহলে তা দিন দিন যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে। মনোমালিন্য থাকবেই এবং এসব স্বাভাবিক। কিন্তু সহকর্মীদের সঙ্গে যদি সমস্যাগুলো ক্রমশ চলতেই থাকে এবং তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে চাকরি ছেড়ে দেয়ার কথা বিবেচনা করতে পারেন।
নিজের মতো চলা:
কর্মস্থলে যদি নিজের মতো চলতে না পারেন বা কর্মক্ষেত্রে যদি নিজেকে আড়াল রাখতে হয়, তাহলে চাকরি ছাড়ার কথা ভেবে দেখতে পারেন। কর্মস্থলে পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং যথাযথভাবে উপস্থিত হবেন, অন্যরা যদি আপনার কাছে এমনটা আশা করে, তাহলে কখনোই তাদের মতো হতে পারবেন না।
নেতৃত্ব:
নিজের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা বসের কথা বিবেচনা করুন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে সামঞ্জস্যের অভাব হলে এখনই চাকরি ছেড়ে দেয়ার উপযুক্ত সময়। আপনি যদি বসকে সম্মান করতে না পারেন কিংবা বস যদি আপনার সঙ্গে ন্যায় আচরণ করে না বলে মনে হয়, তাহলে সেখানে আর নয়। প্রতিষ্ঠানের অন্যসব ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কথাও বিবেচনা করুন। যদি তাদের অনুপ্রেরণামূলক মনে না করেন, প্রতিষ্ঠানের সফলতায় তাদের অবদান নিয়ে যদি আস্থা না থাকে কিংবা আপনার মূল্যবোধের সঙ্গে তাদের আচরণ সামঞ্জস্যপূর্ণ না হয়, তাহলে পদত্যাগ করতে পারেন।
সংস্কৃতি:
আপনার কর্মস্থল যদি বিষাক্ত পরিবেশ হয়ে উঠে, তাহলে পদত্যাগ করতে পারেন। সংস্কৃতি হয়তো যত খারাপ আচরণ সহ্য করতে পারে, তত ভালো। কিন্তু আপনি যদি এমন পরিবেশে থাকেন, যেখানে কর্মীদের জবাবদিহি করা হয় না কিংবা সহকর্মীদের মধ্যে খারাপ আচরণ চলতে থাকে, তাহলে সেখান থেকে চলে যাওয়ার কথা ভাবতে পারেন।


No comments