Adsterra

লোড হচ্ছে...

ভালোবাসায় স্পেস কতোটা জরুরি ?

 

ভালোবাসায় স্পেস কতোটা জরুরি?ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

ভালোবাসা মানেই সারাক্ষণ একসঙ্গে থাকা,সব কিছু ভাগ করে নেওয়া,একে অন্যের প্রত্যেকটা মুহূর্ত খবরদারি করা ,এইসব ধারণা আমাদের সমাজে বেশ পরিচিত।অনেকেই মনে করেন,যত বেশি কাছাকাছি থাকা যায়,সম্পর্ক তত গভীর হয়।কিন্তু বাস্তবে ভালোবাসা টিকে থাকে শুধু ঘনিষ্ঠতায় নয়;টিকে থাকে বোঝাপড়া,বিশ্বাস আর ব্যক্তিগত স্পেসের ভারসাম্যে।স্পেস মানে দূরত্ব নয়,বরং নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুযোগ।

প্রতিটি মানুষ আলাদা পরিবেশ, অভ্যাস ও মানসিকতা নিয়ে বড় হয়। সম্পর্ক শুরু হওয়ার পরও এই আলাদা পরিচয়গুলো পুরোপুরি মুছে যায় না।বরং সেগুলোকে অস্বীকার করলে সম্পর্কের ভেতর চাপ তৈরি হয়।কারও প্রয়োজন একা বসে ভাবার, কারও প্রয়োজন বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর,আবার কারও শখের কাজেই মানসিক শান্তি আসে।সঙ্গীর এই জায়গাগুলোকে সম্মান করাই হল ভালোবাসায় স্পেস দেওয়া।এতে সম্পর্ক দুর্বল হয় না,বরং আরও শক্ত হয়।

অনেক সম্পর্কেই ভালোবাসার নামে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ দেখা যায়।ফোনে বারবার খোঁজ নেওয়া,অনলাইন থাকার সময় হিসাব করা,প্রতিটি সিদ্ধান্তে জবাবদিহি চাওয়া;শুরুর দিকে এগুলো যত্ন মনে হলেও একসময় বিরক্তি আর ক্লান্তির কারণ হয়ে ওঠে।যখন ব্যক্তিগত স্পেস সংকুচিত হয়, তখন মানুষ সম্পর্কের ভেতরেই একাকীত্ব অনুভব করতে শুরু করে।ভালোবাসা তখন আনন্দের জায়গা না হয়ে চাপের জায়গায় পরিণত হয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও স্পেস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।নিজের জন্য সময় না পেলে মানুষের ভেতরে জমে ওঠে অব্যক্ত ক্ষোভ ও বিরক্তি।একা সময় কাটানো মানুষকে নিজের অনুভূতি বুঝতে সাহায্য করে,নিজের সীমা চিনতে শেখায়। এতে সম্পর্কের ভেতর অপ্রয়োজনীয় ঝগড়া কমে আসে। কারণ মানুষ তখন নিজের অপূর্ণতা বা ক্লান্তি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেয় না।

ভালোবাসায় স্পেস মানে অবহেলা বা দূরে সরে যাওয়া নয়।বরং সচেতনভাবে একে অন্যের প্রয়োজন বোঝা।কেউ হয়তো কাজের চাপে কিছুদিন চুপ থাকতে চায়,কেউ নিজের ভেতরটা গুছিয়ে নিতে চায়।এই সময়গুলোকে সন্দেহ নয়,বিশ্বাস দিয়ে গ্রহণ করাই পরিণত ভালোবাসার পরিচয়।স্পেস দেওয়া মানে বিশ্বাস রাখা,এই মানুষটি নিজের মতো করে সময় কাটিয়েও আমার কাছেই ফিরে আসবে।

যেসব সম্পর্কে স্পেস স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা হয়,সেখানে বোঝাপড়া গভীর হয়।দু’জন মানুষই জানে,তাদের আলাদা জগত থাকলেও সম্পর্কের কেন্দ্রটি নিরাপদ।সেখানে ভালোবাসা দখলের নয়,আশ্রয়ের জায়গা হয়ে ওঠে।

শেষ পর্যন্ত ভালোবাসা মানে কারও জীবন দখল করা নয়,বরং পাশে থেকে শক্তি দেওয়া।স্পেস ছাড়া সম্পর্ক হয়তো টিকে যায়,কিন্তু শান্তি হারায়। আর যেখানে শান্তি নেই,সেখানে ভালোবাসাও দীর্ঘস্থায়ী হয় না।তাই ভালোবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাকে মুক্ত বাতাসে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগ দিতে হয়।

 আরও পড়ুন  ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে ইরান?  

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.