Adsterra

লোড হচ্ছে...

ডিজিটাল জীবনেও কেন ক্লান্তি আসে?

ডিজিটাল জীবনেও কেন ক্লান্তি আসে?ঢাকা ভয়েস, Dhaka Voice, Trending News, Viral News, Top News

একসময় মনে করা হতো প্রযুক্তি আমাদের জীবন সহজ করবে, সময় বাঁচাবে, চাপ কমাবে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। স্মার্টফোন, ল্যাপটপ আর ইন্টারনেট নির্ভর জীবনে থেকেও আমরা দিন শেষে ক্লান্ত, অবসন্ন, মানসিকভাবে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছি।

প্রশ্ন হলো ,শারীরিক পরিশ্রম কমলেও ডিজিটাল জীবন কেন আমাদের এত ক্লান্ত করে তুলছে?

সারাক্ষণ অনলাইনে থাকার চাপ

ডিজিটাল জীবনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো সবসময় সংযুক্ত থাকা। অফিসের কাজ, ব্যক্তিগত মেসেজ, সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেইল সবকিছুতেই দ্রুত সাড়া দেওয়ার অদৃশ্য চাপ তৈরি হয়। ফোনের নোটিফিকেশন যেন বিশ্রাম নিতে দেয় না। মস্তিষ্ক সবসময় ‘অ্যালার্ট মোডে’ থাকায় মানসিক ক্লান্তি জমতে থাকে।

তথ্যের অতিরিক্ত বোঝা

প্রতিদিন আমরা যে পরিমাণ তথ্য গ্রহণ করি, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। খবর, ভিডিও, পোস্ট, রিলস, বিজ্ঞাপন একটার পর একটা তথ্য মস্তিষ্কে ঢুকতে থাকে। এই ইনফরমেশন ওভারলোড মস্তিষ্ককে সিদ্ধান্তহীন ও ক্লান্ত করে তোলে। কী জরুরি, কী নয় এটা বাছাই করতেই মানসিক শক্তি ক্ষয় হয়।

চোখ ও শরীরের ক্ষতি

দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে জ্বালা, মাথাব্যথা, ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা এসব এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। শরীর নড়াচড়া কমে যাওয়ায় রক্তসঞ্চালন ধীর হয়, ক্লান্তি আরও বেড়ে যায়।

ভার্চুয়াল ব্যস্ততা, বিশ্রামের অভাব

ডিজিটাল জীবন আমাদের ব্যস্ত রাখে ঠিকই, কিন্তু মানসিক বিশ্রাম দেয় না। সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় কাটালেও মস্তিষ্ক আসলে বিশ্রাম পায় না; বরং তুলনা, প্রত্যাশা ও অপ্রাপ্তির অনুভূতি বাড়ে। অন্যের সাজানো জীবনের সঙ্গে নিজের জীবন মিলিয়ে দেখতে গিয়ে মন আরও ভারী হয়ে ওঠে।

কাজ আর ব্যক্তিগত জীবনের সীমারেখা মুছে যাওয়া

ডিজিটাল প্রযুক্তির কারণে কাজ এখন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাসায় বসেও অফিসের কাজ, ছুটির দিনেও কল বা মেসেজ এই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ক-লাইফ ব্যালান্স নষ্ট হয়ে যায়।

সবসময় পারফেক্ট থাকার চাপ

অনলাইনে নিজেকে উপস্থাপন করার এক ধরনের চাপ কাজ করে। সুন্দর ছবি, বুদ্ধিদীপ্ত স্ট্যাটাস, সক্রিয় উপস্থিতি এই অদৃশ্য প্রতিযোগিতা মানসিক শক্তি শুষে নেয়। বাস্তব জীবনের ক্লান্তি ডিজিটাল পর্দার আড়ালে চাপা দিতে গিয়ে মানুষ আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে।

ঘুমের ওপর প্রযুক্তির প্রভাব

রাতে ঘুমানোর আগে ফোন স্ক্রল করা এখন অনেকের অভ্যাস। কিন্তু স্ক্রিনের নীল আলো ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট করে। পর্যাপ্ত ও গভীর ঘুম না হলে শরীর ও মন দুটোই ক্লান্ত থাকে, যার প্রভাব পড়ে পরের দিনজুড়ে।

সমাধান কোথায়?

ডিজিটাল ক্লান্তি পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। নির্দিষ্ট সময় পর পর স্ক্রিন থেকে বিরতি নেওয়া, অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখা, দিনে কিছুটা সময় প্রযুক্তি ছাড়া কাটানো এসব ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। সবচেয়ে জরুরি হলো নিজেকে প্রশ্ন করা,আমি প্রযুক্তি ব্যবহার করছি, নাকি প্রযুক্তি আমাকে ব্যবহার করছে?

আরও পড়ুন  ট্রাম্পের পরবর্তী লক্ষ্য কি তবে ইরান?  

ঢাকাভয়েস/এই

No comments

Powered by Blogger.