২০২৬ বিশ্বকাপের টিকিট: কীভাবে পাবেন
২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পুরো সূচি প্রকাশের পর দর্শকদের আগ্রহ নতুন মাত্রা পেয়েছে। কোন দলের প্রতিপক্ষ কারা, কোন ম্যাচ কখন এবং কোথায়—সব তথ্য এখন উন্মুক্ত। অনেকেই মাঠে বসে খেলা দেখার উপায় খুঁজছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে। জুন-জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্য টুর্নামেন্টের টিকিট ইতিমধ্যেই দুই দফায় বিক্রি হয়েছে, প্রায় ২০ লাখ টিকিট। তবে অনেকেই এখনও টিকিট পাননি।
টিকিট পাওয়ার উপায়
১. চূড়ান্ত লটারি:
১১ ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় ও শেষ দফার টিকিট বিক্রি শুরু হবে, যা ‘র্যান্ডম সিলেকশন ড্র’ নামে পরিচিত। আগ্রহীদের ফিফার টিকিটিং ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘ফিফা আইডি’ দিয়ে সাইন আপ করতে হবে। আবেদনকারীদের নিয়ে ফেব্রুয়ারিতে লটারি অনুষ্ঠিত হবে। যাদের টিকিট পাওয়া যাবে, তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিকিটের মূল্য কেটে নেওয়া হবে।
২. শেষ মুহূর্তের ক্রয়:
লটারিতে টিকিট না পেলে ‘লাস্ট মিনিট সেলস’ সুযোগ থাকবে। লটারির পর অবশিষ্ট টিকিট এখানে বিক্রি হবে। কতগুলো টিকিট থাকবে এবং কোন ম্যাচের জন্য তা এখন জানা সম্ভব নয়।
৩. পুনর্বিক্রয় বাজার:
ফিফা পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এছাড়া স্টাবহাবের মতো অন্যান্য জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম থেকেও টিকিট পাওয়া যাবে। তবে মূল দামের চেয়ে বেশি খরচ হতে পারে।
৪. হসপিটালিটি প্যাকেজ:
ফিফা হসপিটালিটি প্যাকেজের মাধ্যমে ম্যাচ টিকিটসহ সুবিধা প্রদান করছে। এই প্যাকেজের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি।
র্যান্ডম সিলেকশন ড্র কিভাবে কাজ করে
এবারের লটারি নির্দিষ্ট ম্যাচ, টিকিট ক্যাটাগরি এবং দামের ভিত্তিতে করা হবে। ফলাফল তিন ধরনের হতে পারে:
সফল: আবেদন করা সব টিকিট পাবেন।
আংশিক সফল: কিছু ম্যাচের জন্য টিকিট পাবেন, অন্যগুলোর জন্য না।
ব্যর্থ: কোনো টিকিট পাবেন না।
প্রতিটি আবেদন স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনা করা হয়। একাধিক ম্যাচে আবেদন করলে সমস্যা হয় না। প্রতিটি পরিবার সর্বাধিক ৪০টি টিকিট এবং প্রতি ম্যাচ সর্বাধিক চারটি টিকিট কিনতে পারবে।
টিকিটের দাম
ফিফা এবার ‘ডাইনামিক প্রাইসিং’ কৌশল ব্যবহার করছে। জনপ্রিয় দল যেমন আর্জেন্টিনা বা ব্রাজিলের ম্যাচের দাম চাহিদা অনুযায়ী বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তী দামের তালিকা ১১ ডিসেম্বর প্রকাশ হবে।
গ্রুপে বেশি লোক গেলে কৌশল
চারজনের বেশি গ্রুপে গেলে আলাদা ফিফা আইডি ব্যবহার করে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর ফিফার ‘সিট টুগেদার’ ফাংশন ব্যবহার করে টিকিট একত্র করার চেষ্টা করা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রয়োজন কি
টিকিট থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়া যায় না। যারা ভিসা পাননি, তাদের আবেদন করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ভিসার জন্য আগে থেকেই আবেদন করা উচিত।
ফিফা ‘ফিফা পাস’ নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেছে, যা দ্রুততর ভিসা সাক্ষাৎকারের জন্য সহায়ক। তবে এটি ভিসা নিশ্চিত করে না। আপনাকে এখনও সাধারণ যাচাই প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট সাধারণত ৬–৮ সপ্তাহের মধ্যে সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করবে।
টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা
টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনা নির্ভর করছে কতজন নির্দিষ্ট ম্যাচের টিকিটের জন্য আবেদন করেছেন তার উপর। বড় দল বা নকআউট পর্বের ম্যাচের চাহিদা বেশি। ছোট দল বা অপেক্ষাকৃত গুরুত্বপূর্ণ নয় এমন ম্যাচের চাহিদা কম।
ফিফা জানিয়েছে, ‘একটি ম্যাচ টিকিট কোনো স্বাগতিক দেশে প্রবেশের গ্যারান্টি দেয় না’।
আরও পড়ুন টিউমার ও ক্যানসারের মধ্যে পার্থক্য জানা জরুরি
ঢাকাভয়েস/এই


No comments