Adsterra

লোড হচ্ছে...

মুম্বাইয়ের ধারাভির মতো কড়াইল বস্তিও কি ‘‌এলিট’ প্রকল্পে আক্রান্ত হবে

ধারাভি রিডেভেলপমেন্ট, কড়াইল বস্তি, বস্তি পুনর্বাসন, আগুন ঘটনা, নগর পরিকল্পনা, আদানি প্রকল্প, বস্তিবাসী উচ্ছেদ, ঢাকা উন্নয়ন, ভূমি দখল, আইটি ভিলেজ

মুম্বাই বিমানবন্দরের পাশে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি ধারাভির অবস্থান। ১৯৮০ সাল থেকেই এ বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি মহারাষ্ট্র সরকার। সবশেষ ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি ধারাভি পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেন।

মুম্বাই বিমানবন্দরের পাশে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় বস্তি ধারাভির অবস্থান। ১৯৮০ সাল থেকেই এ বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনে বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও সফল হয়নি মহারাষ্ট্র সরকার। সবশেষ ভারতের ধনকুবের গৌতম আদানি ধারাভি পুনর্বাসনের কাজ শুরু করেন। মহারাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আদানি গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়ন হচ্ছে ধারাভি রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রাইভেট লিমিটেড (ডিআরপিপিএল)। তবে এ প্রকল্প নিয়ে আপত্তি রয়েছে ধারাভির বেশির ভাগ বাসিন্দার।

অনেক ভারতীয় বিশ্লেষক ও ধারাভির বাসিন্দাদের মতে, আদানির মতো ধনকুবের ধারাভি বস্তিতে বিনিয়োগের পেছনের বড় কারণ এখানকার আকর্ষণীয় জমি। বিমানবন্দর ও অভিজাত এলাকাসংলগ্ন জমি যে কারো জন্যই ভালো বিনিয়োগের ক্ষেত্র। গৌতম আদানিও সে সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন পুরোপুরি। ২০২২ সালে রাজ্য সরকার ধারাভি বস্তির পুনর্গঠন প্রকল্পের পুরনো টেন্ডার বাতিল করেছিল। ৫ হাজার ৭০ কোটি টাকার নতুন দরপত্র দিয়ে টেন্ডার জিতেছিল গৌতম আদানির সংস্থা আদানি প্রপার্টিজ। এরপর ২০১৮ সালের বরাদ্দ বাতিলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। আগের বরাদ্দ পেয়েছিল দুবাইয়ের সংস্থা সেকলিঙ্ক টেকনোলজিস করপোরেশন। আদানিকে বস্তির কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্যই আগের টেন্ডার বাতিল করার অভিযোগ উঠেছিল তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্দের সরকারের বিরুদ্ধে। সে সময় বিরোধীরা অভিযোগ করেছিল, আদানির স্বার্থে বরাদ্দ বাতিল করে টেন্ডারের শর্ত বদল করা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ধারাভি প্রকল্পের বরাদ্দ আদানির পাওয়াকে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ভারত দখলের’ সঙ্গেও তুলনা করেছিলেন। এছাড়া সাবেক মুখ্যমন্ত্রী শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, মহারাষ্ট্রে বিরোধী জোট ক্ষমতায় ফিরলে আদানির হাত থেকে ধারাভি প্রকল্প কেড়ে নেয়া হবে।


চলতি বছরের জুনে আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেডের (এইএল) ৩৩তম বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) বক্তব্য রাখতে গিয়ে গৌতম আদানি বলেন, ‘এশিয়ার বৃহত্তম বস্তিটিকে এখন ভারতের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী নগর পুনর্বাসন প্রকল্প হিসেবে পুনরায় কল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের ধারাভি সোশ্যাল মিশন দক্ষতা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান কর্মসূচির মাধ্যমে যুবকদের উন্নতি করছে। আর ১০ লাখেরও বেশি মানুষ সংকীর্ণ গলি থেকে এমন একটি টাউনশিপে চলে যাবে যেখানে প্রশস্ত বিন্যাস, দ্বৈত টয়লেট, খোলা জায়গা, স্কুল, হাসপাতাল, ট্রানজিট হাব এবং পার্ক থাকবে।’

জানা গেছে, ধারাভির কেন্দ্রস্থলে একটি বৃহৎ সক্রিয় উন্মুক্ত স্থানের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা কেবল বাসিন্দাদের বিনোদনের প্রয়োজনই পূরণ করবে না, বরং মুম্বাই শহরের অন্য নাগরিকদেরও কাজে আসবে। যেখানে ধারাভি এবং মুম্বাইয়ের বাসিন্দারা উদযাপন এবং উৎসবের জন্য একত্র হতে পারে। ধারাভিকে একটি নতুন মেট্রো করিডোরসহ নিরবচ্ছিন্ন মাল্টিমোডাল সংযোগসহ একটি অত্যন্ত ট্রানজিটভিত্তিক উন্নয়নে রূপান্তর করা হবে। ধারাভির কেন্দ্রস্থলে একটি মাল্টিমোডাল ট্রানজিট হাব (এমএমটিএইচ) করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে মেট্রোরেল, বাসের মতো পরিবহন সহজলভ্য হবে।

মুম্বাইয়ের কেন্দ্রস্থলে বিস্তৃত ধারাভি বস্তির বয়স শতবর্ষ পেরিয়েছে। ঘনবসতিপূর্ণ বস্তিটির আয়তন ২ দশমিক ১ বর্গকিলোমিটার; যেখানে রয়েছে হাজার হাজার ছোট একতলা বা দোতলা টিন-চালা ঘর, সরু গলি, ছোট ওয়ার্কশপ আর রিসাইক্লিং শিল্পের সারি। ধারাভির ভেতরে কুম্ভারওয়াড়া, ১৩তম কম্পাউন্ড, রাজীব নগর, কলিওয়াড়ার মতো অংশগুলো আলাদা কাজের জন্য পরিচিত। মাত্র কয়েক ফুট চওড়া গলির দুই পাশে মৃৎশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহার, খাবার প্রস্তুত ও টেক্সটাইলনির্ভর হাজার হাজার ছোট ব্যবসা গড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে এটি এক বিশাল কর্মচঞ্চল জনপদ। আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যার ঘনত্ব এটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকায় পরিণত করেছে। ভারতের সরকারি ও বেসরকারি তথ্যসূত্র অনুযায়ী ধারাভিতে বসবাসকারীর সংখ্যা ৬ থেকে ১০ লাখের মধ্যে ধরা হয়, যা প্রতি বর্গকিলোমিটারে কয়েক লাখ মানুষের সমান ঘনত্ব সৃষ্টি করে।

ধারাভিতে প্রথম রিডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের ধারণা আসে ১৯৮০ সালে। তবে গত ৪৫ বছর সেখানে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ ছিল বস্তিবাসী সরকার কিংবা উন্নয়ন সংস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারেনি। একবার উচ্ছেদ করার পর ফের আবার তাদের জায়গা হবে কিনা এ বিষয়ে বস্তিবাসীর সন্দেহ ছিল। ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সব বস্তিবাসী এখনো আদানির এ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ওপর আস্থা রাখছে না।

গত ৬ নভেম্বর দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বস্তিবাসীদের ভয় ও আতঙ্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বস্তিবাসীরা ধারাভি ছাড়তে রাজি হচ্ছে না। তাদের প্রধান আপত্তি তারা কমিউনিটি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। দ্বিতীয় আপত্তি হলো স্বল্পমূল্যের বস্তির বাসা থেকে তারা অত্যাধুনিক ফ্ল্যাটে স্থানান্তর হলে দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর চাপ বাড়বে। এতে আবারো তাদের ফ্ল্যাট ছেড়ে বস্তিতেই বসবাস করতে হবে।


ধারাভির অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের নগর পরিকল্পনাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কড়াইল বস্তির দিকে সবসময় অনেক প্রভাবশালীর নজর রয়েছে। যখন যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, কড়াইল বস্তি নিয়ে প্রকল্পের প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও নিয়েছে। তবে ভারতে যেভাবে প্রকাশ্যে আদানির মতো ধনকুবের ধারাভি বস্তির কাজ বাগিয়ে নিয়েছে, সে রকম ঘটনা কড়াইল বস্তিতে এখনো হয়নি। বরং কড়াইলের ক্ষেত্রে সব সময় সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে কড়াইল বস্তিবাসীর জন্য ৩০ তলা টাওয়ার বিল্ডিং, কিংবা সেখানে আইটি ভিলেজ ইত্যাদি নানা ধরনের এলিট প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে। এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও একটা উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। নগরসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব প্রকল্পের সামনে সরকার থাকলেও পেছনে সব সময়ই স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থাকে। বিশেষ করে গুলশানের মতো অভিজাত এলাকার পাশেই এত বিশাল জমিতে কোনো ধনী প্রভাবশালী গোষ্ঠীর চোখ না পড়াটা অসম্ভব ব্যাপার।

জানা যায়, ৯০ দশক থেকেই কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগার ঘটনা শুরু হয়। এরপর নিয়মিত বিরতিতে প্রতি বছর বা কয়েক বছরের ব্যবধানে বড়-ছোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনের কারণ হিসেবে কখনো বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, কখনো চুলার আগুনের কথা উল্লেখ করা হয়। কিন্তু বস্তিবাসীর এক অংশ বরাবরই এ আগুন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। কারণ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্থা এ খাসজমি অন্য কাজে ব্যবহারের কথা আলোচনা করেছে। তবে আগুন নিয়ে এসব অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

২০১২ সালে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের অংশ হিসেবে কড়াইল বস্তির জমিতে ‘আইটি ভিলেজ’ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা চলছিল। তখন আবার একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে হাজারের বেশি ঘর পুড়ে যায়। সর্বশেষ গত বুধবার কড়াইলে আগুনে পুড়েছে দেড় হাজার ঘর। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কথা ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নজরে এনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানান, কড়াইল বস্তির জায়গায় যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণের কোনো পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।

কড়াইল বস্তিতে বারবার আগুন লাগার পেছনে স্বার্থান্বেষী কোনো মহলের উদ্দেশ্য থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘‌কড়াইল বস্তিতে আগুন লাগলেই কথা ওঠে আগুন লাগানো হয়েছে। বিশেষ করে বিগত সময়ে দেখা গেছে সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের একটা অংশ বস্তির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করে। ঘর বেচাকেনা, মাদক, রাজনৈতিক শোডাউনে ব্যবহার ইত্যাদি কারণেই তাদের কাছে কড়াইল বস্তির গুরুত্ব আছে। গণমাধ্যমে বারবার উঠে এসেছে, কড়াইল বস্তির নিয়ন্ত্রণে কারা থাকে, কারা অপরাধ করে। কিন্তু কোনো সরকারের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত কোনো শ্বেতপত্র প্রকাশ করে বিষয়গুলো পরিষ্কার করা হয়নি।’


কড়াইল বস্তির ভারতের ধারাভির মতো হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ মন্তব্য করে তিনি অবশ্য বলেন, ‘‌বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সে সম্ভাবনা দেখছি না। কড়াইলের বিশেষ দিক হলো যখনই এখানে কোনো অজুহাতে উচ্ছেদের কথা বলা হয়, তখনই লাখ লাখ মানুষ জড়ো হয়ে যায়। আর উচ্চ আদালতও বস্তিবাসীর বাঁচার অধিকার হিসেবে উচ্ছেদ না করার রায় দিয়েছেন। সে প্রেক্ষাপটে কড়াইল বস্তি ধারাভির মতো হবে না বলেই মনে হচ্ছে। তবে কোনো সরকার যদি বাস্তবিকই চায়, তাহলে সম্ভব হতে পারে। এখনো গিয়ে দেখেন, মানুষের ঘর পুড়েছে, কিন্তু তারা জমির দখল ছাড়েনি। এটা কড়াইলের খুবই ইন্টারেস্টিং ক্যারেক্টার। আর হবেও না কেন, বস্তিবাসীর শেষ আশ্রয় এখানেই। জীবনের বিনিময়ে হলেও তারা এর দখল রাখতে চাইবে এবং তারা এখন পর্যন্ত সফল।’

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, মুম্বাইয়ের মতো ঢাকার অর্থনীতিতেও কড়াইল বস্তিবাসী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তাদের মতে, আধুনিক নগর পরিকল্পনায় বস্তিবাসীর এমন গুরুত্বের কথা উল্লেখ রয়েছে। বস্তিবাসী শুধু গুলশান-বনানীর মতো অভিজাত এলাকার মানুষের সহযোগী হিসেবে কাজ করেন না, বরং শহরের অনেক কর্মকাণ্ডকে সচল রাখেন। শহরের পরিবহন খাত, বাসাবাড়ি অফিস-আদালত, নির্মাণ শিল্প, মার্কেট, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কাজে তারা নিয়োজিত। এমন একটি বৃহৎ শ্রম জনগোষ্ঠীকে শহরের মূলধারার বাইরের চিন্তা করার সুযোগ নেই।

নগর পরিকল্পনাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক নজরুল ইসলামের ‘ঢাকা: ফ্রম সিটি টু মেগাসিটি’ গবেষণা মতে, কড়াইল কোনো অপরিকল্পিত বসতি নয়, বরং এটি রাজনৈতিক প্রশ্রয়ে গড়ে ওঠা একটি অনানুষ্ঠানিক আবাসন ব্যবস্থা। এটি একদিনে গড়ে ওঠেনি; বরং ধাপে ধাপে লেক ভরাট করে, মাটি ফেলে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে এর পরিধি বাড়ানো হয়েছে। আজকের কড়াইল তাই কেবল অসহায় মানুষের আশ্রয়স্থল নয়, বরং ক্ষমতার এক বড় বাণিজ্যিক ক্ষেত্র।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অতীতে যত সরকারই এসেছে তারা কোনো না কোনোভাবে কড়াইল বস্তির দিকে নজর দিয়েছে। ‌তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও কড়াইল বস্তিতে একটা প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। সামনের নির্বাচিত সরকারও হয়তো কোনো উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এর আগে কোনো উদ্যোগই সফল হয়নি। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, বস্তিবাসীকে প্রাধ্যান্য দিয়ে তাদের জন্য সরকারের উদ্যোগে নিরাপদ বাসস্থান করা উচিত। এভাবে বারবার তাদের জীবন-বাসস্থান ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অর্থ নেই।’

তবে বাস্তবতার নিরিখে কড়াইল বস্তির ভবিষ্যৎ অমীমাংসিতই থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের (ইউআরপি) অধ্যাপক ড. আকতার মাহমুদ। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না কড়াইল বস্তি ধারাভির পথে হাঁটছে। বিভিন্ন সরকার সময়ে সময়ে কড়াইলবাসীকে উন্নয়ন প্রকল্পের গল্প শোনায়। কখনো বলে এখানে ২০ তলা ভবন হবে। বিশাল মাঠ হবে। অর্ধেক সরকার নেবে। বাকি অর্ধেক বস্তিবাসীকে দেয়া হবে। এগুলো অবাস্তব কথা। এসব না বলে সবার আগে কড়াইলবাসীর সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, পানীয় ও অগ্নিনিরাপত্তার মতো বিষয় পরিকল্পনামাফিক সমাধান করাই হবে কার্যকর সমাধান।’


No comments

Powered by Blogger.