Adsterra

লোড হচ্ছে...

পোষা প্রাণী রাখলে কি সত্যিই বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা?

 

পোষা প্রাণী রাখলে কি সত্যিই বাড়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা?
                                  ছবি : অরোনা রহমান নিতু

পোষা প্রাণীর উপস্থিতি মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এটা অ্যালার্জি, একজিমা বা চুলকানি এবং এমনকি থাইরয়েড সংক্রান্ত রোগ, টাইপ ওয়ান ডায়বেটিসের মতো অটোইমিউনো ডিজিজের ঝুঁকিও কমিয়ে দিতে পারে বলে গবেষকরা দাবি করছেন।  এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গেলে আমিশ সম্প্রদায়ের মতো সম্প্রদায়ের কথাও উল্লেখ করা দরকার। ১৯৬০ এর দশক থেকে হাঁপানি, একজিমা এবং অ্যালার্জির মতো প্রতিরোধ ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্কিত রোগের বাড়বাড়ন্ত লক্ষ্য করা গেলেও তা কিন্তু আমিশদের প্রভাবিত করতে পারেনি।

এর নেপথ্যে থাকা কারণ একদিকে যেমন মানুষের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করে তার বিষয়ে যেমন আভাস দেয়, তেমনই প্রাণীর উপস্থিতি ওই প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে সেটাও তুলে ধরে।

আমিশ সম্প্রদায়ের মধ্যে কয়েকটা রোগের প্রকোপ কেন কম দেখা যায়। তা জানার জন্য ২০১২ সালে একদল গবেষক ইন্ডিয়ানায় বসবাসকারী আমিশ সম্প্রদায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করেছিলেন। একইভাবে তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন সাউথ ডাকোটায় হুটেরাইটস বা হুটেরিয়ান নামে পরিচিত আরেক সম্প্রদায়ের মানুষকেও। দুই ক্ষেত্রেই গবেষকরা ৩০জন শিশুর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন। হুটেরাইটস কৃষিভিত্তিক সম্প্রদায় এবং তারাও আমিশদের মতোই নিজেদের কমিউনিটির মাঝে থাকতে পছন্দ করে।

আমিশ এবং হুটেরাইটসদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তাদের পূর্বপুরুষরা ইউরোপীয়, দুই সম্প্রদায়ের মানুষই দুষিত বায়ুর সংস্পর্শে কম এসেছেন এবং তারা প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান। তবে হুটেরাইটস সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে হাঁপানি এবং শৈশবকালীন অ্যালার্জির হার আমিশ সম্প্রদায়ের শিশুদের তুলনায় চার থেকে ছয়গুণ বেশি।

গবেষকরা এর কারণ পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন। তাদের মতে, এই দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে একটা পার্থক্য হলো হুটেরাইটসরা শিল্পায়িত কৃষি প্রযুক্তিগুলোকে পুরোপুরি গ্রহণ করেছে, কিন্তু আমিশ সম্প্রদায় তা করেনি। এর অর্থ হলো অল্প বয়স থেকেই আমিশ সম্প্রদায়ের মানুষ প্রাণীদের সাহচর্যে রয়েছে এবং তাদের (ওই প্রাণীদের) বয়ে আনা করা জীবাণুর সংস্পর্শেও থেকেছে।

এই বিষয়টাকে ব্যাখ্যা করেছেন আয়ারল্যান্ডস্থিত 'ইউনিভার্সিটি কলেজ কর্ক'-এর মেডিসিন বিভাগের এমেরিটাস অধ্যাপক ফার্গুস শানাহান। তার কথায়, "যদি আমিশ বসতির ছবি দেখেন এবং তাকে হুটেরাইটসদের বসতির সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে লক্ষ্য করবেন আমিশ সম্প্রদায়ের মানুষ খামারে প্রাণীদের সঙ্গে বাস করে।"

"হুটেরাইটসরা বাস করে ছোট ছোট গ্রামে। তাদের খামারগুলো অনেক সময় বাড়ি থেকে কয়েক মাইল দূরে।"

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং জার্মানির একদল গবেষক এই নিয়ে পরীক্ষা চালিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে আমিশ সম্প্রদায়ের শিশুদের মধ্যে অ্যালার্জির ঝুঁকি কম থাকার কারণ, পরিবেশ তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে এইভাবে গড়ে তুলেছে।

তাদের ওই গবেষণা ২০১৬ সালে প্রকাশিত হয় এবং একে যুগান্তকারী গবেষণা বলে মনে করা হয়। ওই গবেষকরা লক্ষ্য করেন, হুটেরাইট সম্প্রদায়ের শিশুদের তুলনায় আমিশ শিশুদের শরীরে 'টি কোষগুলো' আরও বেশি কার্যকর। এই 'টি কোষ'ই মানবদেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুই সম্প্রদায়ের শিশুদের বাড়ি থেকে ধুলোবালির নমুনা সংগ্রহ করেছিলেন গবেষকরা। উদ্দেশ্য ছিল, ওই ধূলিকণায় কী কী ধরনের ব্যাকটেরিয়া রয়েছে তা খতিয়ে দেখা।

সেই সময় স্পষ্ট প্রমাণ মেলে যে আমিশ স্পম্প্রদায়ের শিশুরা আরও বেশি পরিমাণে মাইক্রোবের (অণুজীব বা জীবাণু) সংস্পর্শে এসেছে এবং সেটা সম্ভবত সেই প্রাণীদের থেকে আসা যাদের সাহচর্যে তারা বাস করে।  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা গবেষকদের পরীক্ষাও একই কথা বলছে।

ইমিউনোলজিস্টদের (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ) একটা দল পরীক্ষা করে জানিয়েছে, আলপাইন খামারে বেড়ে ওঠা শিশুরা হাঁপানি, হে ফিভার এবং একজিমার মতো রোগ থেকে সুরক্ষিত। গরু পালন করা হয় ওই সব খামারে এবং তাদের মালিকদের বাড়িগুলো এসব খামারের কাছাকাছি।

শৈশবের প্রথমদিকে বাচ্চারা যত সংখ্যক পোষা প্রাণীর উপস্থিতিতে থেকেছে, তার সঙ্গে অ্যালার্জির ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে বলেও গবেষণায় দেখা গিয়েছে। গবেষকদের মতে, সাত থেকে নয় বছর বয়সের শিশুর অ্যালার্জির ঝুঁকি তাদের জীবনের প্রথম বছরগুলোতে বাড়িতে উপস্থিত পোষা প্রাণীর সংখ্যার সাথে আনুপাতিকভাবে হ্রাস পায়। একে 'মিনি-ফার্ম এফেক্ট' বলা হয়। তবে গবেষকরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন যাদের ইতোমধ্যে একজিমা রয়েছে, তাদের নতুনভাবে কুকুরের সাহচর্যে রাখলে, রোগের লক্ষণ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


No comments

Powered by Blogger.