নির্বাচনের নতুন নিয়মে উত্তেজনা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-আরপিও সংশোধন, ২০২৫-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার বাতিল, ‘না ভোট’ পুনর্বহাল, পলাতক আসামিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা এবং নিজ প্রতীকে নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা উল্লেখযোগ্য।
সর্বশেষ সংশোধনী অনুযায়ী, জোট করলেও শরিক দলের প্রার্থীরা জোটের প্রধান দলের প্রতীকে ভোট দিতে পারবেন না। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিএনপি একতরফাভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ করেছে। দলটি আইন বাতিলের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং আইন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা অভিযোগ করেছেন, বিশেষ দলকে সুবিধা দিতে এই সংশোধনী আনা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, নির্বাচনে জোট করলেও মেজর দলের মার্কায় ভোট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। যেমন বিগত সময়ে জামায়াত ধানের শীষ প্রতীকে অংশ নিয়েছে। এটা বন্ধ করার কোনো যুক্তি নেই। যারা জাতীয়ভাবে পরিচিত, তাদের পার্লামেন্টে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এই প্রতীক ব্যবহার নিয়ে স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। এটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিচ্ছে।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সংশোধনীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের মতে, বিএনপির চাপে যদি সংশোধনী বাতিল করা হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এনসিপি নেত্রী সামান্তা শারমিন বলেন, জোট করলেও যে দলের লোক, সে দলের প্রতীকে নির্বাচন করবে। এটি ন্যায্য এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। যদি অন্যকিছু হয়, তাহলে নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রতারণামূলক বার্তা দেবে। বিএনপি চাপ দিলে নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতি সন্দেহ বাড়বে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, জোট করলেও নিজ প্রতীকে ভোটের অধিকার থেকে নির্বাচন কমিশন যদি সরে আসে, তাহলে জনগণ মনে করবে কমিশন একটি বিশেষ দলের পক্ষেই কাজ করছে। অতীতে নির্বাচনের প্রতি অনাস্থা ছিল, আবারো সেই অনাস্থার জন্ম হবে। এতে সরকারও বিতর্কিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিজ প্রতীকে ভোট বাধ্যতামূলক করার এই সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং জোটের মধ্যে ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ। তবে রাজনৈতিক চাপ এবং বিরোধী দলের আপত্তি এই সংশোধনীর কার্যকারিতা এবং গ্রহণযোগ্যতায় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
সাম্প্রতিক এই বিতর্ক দেখাচ্ছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা এবং জোট নীতির কার্যকর প্রয়োগ কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, যদি সংশোধনী বাতিল বা পরিবর্তন করা হয়, তবে তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনমত এবং সংস্থাগুলোর প্রতি বিশ্বাস হ্রাস করতে পারে।
ঢাকা ভয়েস /এসএস


No comments