সন্তানকে মারধর বা বকাঝকা নয়, বাবা-মায়েদের জন্য ৫ পরামর্শ
শিশুদের যুগ যুগ ধরে শাস্তির মাধ্যমে শিক্ষা দেওয়া হলেও সমাজ ও প্রযুক্তির পরিবর্তনে বর্তমানে শিশু ও কিশোররা আরো প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। ফলে ভয় দেখানো বা শারীরিক শাস্তি দিয়ে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করা সব সময় সম্ভব হচ্ছে না।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে শিশুদের নিজস্ব মতামত ও অভিমত রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও তারা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ করতে পারে।
তাই শাস্তির মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। ২০০২ সালে সাইকোলজিক্যাল বুলেটিনে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় দেখা যায় যে, শারীরিক শাস্তি বাবা ও মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ককে নষ্ট করে দেয়।
শাস্তি না দিয়ে যা করতে পারেন -
১) শুরু থেকেই সন্তানকে দায়িত্ব ও কাজের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। অভিভাবক তার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ শিশুকে বুঝিয়ে বললে সে বিষয়টি মেনে নেবে, ফলে শাস্তির প্রয়োজন হবে না।
২) সন্তান যদি কোনো কাজে বাধ্য হয়, তবে তাকে ছোটখাটো পুরস্কার দেওয়া যেতে পারে। যেমন খেলনা বা খাবার। এতে সে খুশি মনে একই কাজ আবার করতে চাইবে। তবে পুরস্কারের অভ্যাস বেশি না বাড়ানোই ভালো।
৩) ভুল করলে তার ফল সন্তানকে ভোগ করতে দেওয়া উচিত। যদি শিশু খাবার খেতে না চায় তবে তাকে না খেয়ে থাকতে দেওয়া যেতে পারে। এতে সে নিজেই বুঝতে পারবে যে সে ভুল করেছে এবং পরবর্তীতে খাবার খেতে আগ্রহী হবে।
৪) সন্তানের মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ব্যস্ততার কারণে অনেক অভিভাবক নিজের সন্তানকে সময় দিতে পারেন না।
তাই প্রতিদিন অন্তত এক ঘণ্টা সন্তানকে সময় দিয়ে খোলামেলা কথা বললে তারা নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবে। এতে নতুন সমস্যা তৈরি হবে না এবং তারা আরো নিরাপদ বোধ করবে।
৫) রাগ হলে সন্তানের ওপর জোর করা উচিত নয়। এতে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। বরং তাকে কিছু সময় একা থাকতে দেওয়া ভালো। পরে শান্ত পরিবেশে তার সঙ্গে কথা বলা উচিত। এসব বিকল্প উপায় গ্রহণ করলে শাস্তির বদলে সম্পর্ক মজবুত হবে এবং শিশুর আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।


No comments